যশোর-৬ আসনে শ্রাবণের পরিবর্তে আজাদকে মনোনয়ন

যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ। এর ফলে প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন থেকে বাদ পড়লেন।

বুধবার (২৪ ডিসম্বর) রাতেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আবুল হোসেন আজাদের হাতে মনোনয়নের টিকিট তুলে দেওয়া হয়। টিকিটে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষর রয়েছে।

এর আগে এ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়ার পর গত দেড় মাস ধরে তিনি এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে দলীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মাধ্যমে শ্রাবণের পরিবর্তে আবুল হোসেন আজাদকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়।

মনোনয়ন পরিবর্তনের খবরে শ্রাবণপন্থিদের মধ্যে হতাশা দেখা দিলেও আজাদপন্থিদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এদিকে কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, আবুল হোসেন আজাদ দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কেশবপুর বিএনপির দুঃসময়ে একজন পরীক্ষিত সংগঠক হিসেবে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। রাজনৈতিক হামলা-মামলার কঠিন সময়েও তিনি নির্যাতিত নেতাকর্মীদের আশ্রয় ও সহায়তা দিয়েছেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, কেশবপুরে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ত্যাগ, শ্রম ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে তিনি দলকে শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন। সৎ ও নিষ্ঠাবান এই নেতা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও আবুল হোসেন আজাদের ভূমিকা প্রশংসিত। নিজস্ব অর্থায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও দলীয় কার্যালয় নির্মাণের পাশাপাশি নিজ জমিতে বিনামূল্যে দোকানঘর বরাদ্দ দিয়ে অসহায় পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩ নভেম্বর প্রাথমিক মনোনয়ন না পেলেও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন আবুল হোসেন আজাদ, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিল।