মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার সিলেটের ডিসির

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

সিলেটে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে পক্ষপাতিত্ব ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও গুজব বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাত বা লেনদেনের প্রশ্নই আসে না। এমন কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি নিজেই চাকরি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘গত দু’দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুজব ছড়ানো হচ্ছে— আমি নাকি ১০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছি। আমি কি এতই সস্তা? ১০ কোটি নয়, ১০ হাজার কোটি টাকা দিয়েও কেউ আমাকে কিনতে পারবে না।’

তিনি বলেন, সম্প্রতি দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কারণে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের মতো ভয়ংকর গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা।

রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। সিলেটে তিনজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয় যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন প্রার্থী দাবি করেছেন যে তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগের কোনো বৈধ ও গ্রহণযোগ্য ডকুমেন্ট জমা দিতে পারেননি।’

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘নাগরিকত্ব ত্যাগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ইমিগ্রেশন বা হোম অফিসের স্বীকৃত ডকুমেন্ট অথবা বাংলাদেশ হাইকমিশনের দেওয়া রসিদ প্রয়োজন। প্রার্থী তা উপস্থাপন করতে না পারায় আইন অনুযায়ী মনোনয়ন বাতিল করা ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প ছিল না। এখানে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই।’

ঘুষের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘১০ কোটি টাকা তো দূরের কথা, কেউ যদি এক টাকার ঘুষ দেওয়ারও প্রমাণ দেখাতে পারে, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছেড়ে দেব এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মাথা পেতে নেব।’ তিনি এসব অভিযোগকে ‘ভয়ংকর ফেক নিউজ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করতে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, সিলেট জেলার তিনটি আসনে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাছাইয়ের প্রথম দিনে স্থগিত করা হয়। তারা হলেন— সিলেট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী এমএ মালিক, সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী এবং সিলেট-১ আসনে এনসিপির প্রার্থী এহতেশাম হক। দ্বিতীয় দিনে এমএ মালিক ও ফয়সল আহমদ চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং এহতেশাম হকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এর পরই এহতেশাম হক সংবাদ সম্মেলন করে মনোনয়ন বাছাইয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত