বিএনপির বিরুদ্ধে ইসিতে অভিযোগ জামায়াতের

একটি বড় রাজনৈতিক দল (বিএনপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোটারদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এমন অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, ওই রাজনৈতিক দল লাখ লাখ কার্ড বিতরণের কথা বলছে। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পাওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।

গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এসব অভিযোগের কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কোনো রাজনৈতিক দল এভাবে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না। এটি সরাসরি ভোটার প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এহসানুল মাহবুব আরও বলেন, জামায়াত দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারে আচরণবিধি লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনা চিহ্নিত করেছে। সেগুলো নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। যেখানে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে, আমরা সেসব বিষয় ইসিকে জানিয়েছি। আশা করছি, কমিশন তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন ঘিরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের আশঙ্কার কথা ইসিকে জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামীকাল তারেক রহমান দেশে ফিরছেন এবং এ উপলক্ষে বড় ধরনের সমাবেশ হতে পারে। এতে আচরণবিধি ভঙ্গের ঝুঁকি রয়েছে কি না, সে বিষয়েও আমরা আলোচনা করেছি। আচরণবিধি মানা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।

নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকা-ের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমাদের ৩০০ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তাদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা জরুরি।

যথা সময়ে ভোট চায় এনসিপি : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছাতে আওয়ামী লীগ ও ভারতের পক্ষ থেকে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি বলে মনে করে এনসিপি। এ অবস্থায় ঘোষিত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনী তারিখ যাতে আর পরিবর্তন না হয় সে দাবি জানান নাসীরুদ্দীন।

গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে ইসির প্রতি আস্থা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে কিছু বিশৃঙ্খলা রয়েছে। এখানে ফ্যাসিবাদের অনেক দোসর আছে। নির্বাচনটা আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশনই। আমরা বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খলা দেখতে পাচ্ছি। আমরা সেগুলো রিপোর্ট করেছি।’

নাসির বলেন, ‘একজন প্রার্থী অলরেডি হত্যার শিকার হয়েছেন। আমাদের যারা প্রার্থী রয়েছেন আমরাও তাদের বলেছি, আপনারা নির্বাচন কমিশনের যে বিধিমালাগুলো রয়েছে, সেগুলো মেনে চলবেন। সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকেও বলেছি, সব দলের প্রার্থীর ক্ষেত্রে যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।’

১২ ফেব্রুয়ারি ভোট নিয়ে কোনো আশঙ্কা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশঙ্কা তো বাংলাদেশে রয়েছে, কিন্তু সেই আশঙ্কাটা মানিয়ে আমরা বারবার নির্বাচন কমিশনের কাছে বলেছি যাতে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন করা যায়। নির্বাচন কমিশন যেন কোনো ছোট ভুল না করে, যাতে ডেট পিছিয়ে না যায়। আমরা আজ (গতকাল) অনুরোধ জানিয়েছি, মনোনয়ন আবেদনের যে ডেটগুলো আছে সেগুলো রিথিংকিং করা যায় কি না।’

দলের প্রতীকে নির্বাচন করা প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা অন্য কোনো প্রতীকে ভোট করব না। ইলেক্টোরাল অ্যালায়েন্স করছি। তবে আমরা শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করব। অন্য দলের প্রতি আহ্বান করব, নিজস্ব স্বকীয়তা বিকিয়ে দেবেন না। আজ হয়তো সুযোগ নেই, ভবিষ্যতে সুযোগ আসবে।’