রিহ্যাব ফেয়ারে ক্রেতা-বিক্রেতার মিলনমেলা

আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় আয়োজন রিহ্যাব ফেয়ার যেন ক্রেতা-বিক্রেতার মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মেলার দ্বিতীয় দিন ছিল সরকারি ছুটি। এ দিনে ক্রেতা দর্শনার্থীরা তাদের পছন্দের ফ্ল্যাট এবং প্লটের খোঁজে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ছুটে আসেন।

সকালের দিকে শীতের আমেজে ভিড় না থাকলেও দুপুরের পর ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শেষ বিকেলে ক্রেতা ও ডেভেলপারদের মিলনমেলায় পরিণত হয় রিহ্যাব ফেয়ার। অনেক স্টলে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও শীর্ষ কর্মকর্তারা পরিদর্শনে আসেন এবং দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীতের আমেজ আর ছুটির দিনের অবসর নতুন বাড়ির স্বপ্ন দেখার এটাই সবচেয়ে ভালো সময়। এই সময়টাকেই আরও সহজ ও আনন্দময় করে তুলেছে রিহ্যাব ফেয়ার। রিহ্যাব ফেয়ার উপলক্ষে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এক জায়গায় ঘুরে দেখা যায় অসংখ্য ডেভেলপার ও আবাসন প্রতিষ্ঠানের ফ্ল্যাট ও প্লট। লোকেশন, দাম, ডিজাইন থেকে শুরু করে হস্তান্তরের সময় সব তথ্য এক ছাদের নিচে জানার সুযোগ মেলে এই মেলায়। আলাদা আলাদা অফিসে ঘুরে সময় নষ্ট না করে, তুলনা করে পছন্দের ফ্ল্যাট বেছে নেওয়াই রিহ্যাব ফেয়ারের বড় সুবিধা।

এরমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাট ও প্লট বুকিংয়ে দিচ্ছে বিশেষ ছাড়, সহজ কিস্তি সুবিধা ও মেলা-এক্সক্লুসিভ অফার। প্রথমবার ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহীদের জন্য থাকে বিশেষ পরামর্শ ও গাইডলাইনও।

এক ছাদের নিচে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর প্রকল্প সরাসরি দেখার সুযোগ থাকায় ক্রেতারা আগ্রহ নিয়ে মেলায় আসছেন। একইসঙ্গে ডেভেলপারদের জন্য এটি তাদের প্রকল্প, বিশ্বাসযোগ্যতা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরার অন্যতম কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

মেলায় আসা ক্রেতারা জানান, রিহ্যাব ফেয়ার তাদের জন্য সময় ও ঝুঁকি দুটোই কমিয়ে দিয়েছে। আলাদা আলাদা জায়গায় না ঘুরে এক জায়গায় এসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফ্ল্যাট ও ল্যান্ড প্রকল্প তুলনা, মূল্য যাচাই, লোকেশন, কাগজপত্র ও নির্মাণ মান সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান মেলা উপলক্ষে বিশেষ ছাড়, সহজ কিস্তি সুবিধা, বুকিং ডিসকাউন্ট এবং ব্যাংক হাউজিং লোন-সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক সহায়তা দিচ্ছে, যা ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হচ্ছে।

মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আধুনিক, পরিকল্পিত ও মানসম্মত ফ্ল্যাট এবং ল্যান্ড প্রকল্প উপস্থাপন করছে। তাদের স্টলগুলোতে রেডি ফ্ল্যাট, আন্ডার কনস্ট্রাকশন প্রকল্প ও নিরাপদ বিনিয়োগ সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

দর্শনার্থীরা বলছেন, রিহ্যাব ফেয়ার কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, এটি নিরাপদ আবাসন কেনার জন্য একটি আস্থার জায়গা।

মিরপুরের বেনারসী পল্লীর কাপড় ব্যবসায়ী আকমল হোসেন পরিবার নিয়ে এসেছিলেন মেলা দেখতে। আলাপকালে তিনি জানান, ১৮ বছর ধরে ঢাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। নিজের সঞ্চয় আর কিছু জমি বিক্রির টাকা দিয়ে একটা ফ্ল্যাট কিনতে চাচ্ছেন। কিন্তু সামর্থ্যরে মধ্যে ভাল লোকেশনে পাচ্ছিলেন না। ব্যাংক লোন নিয়েও নানা ঝামেলা।

তিনি আরও বলেন, ‘শুনেছি রিহ্যাব ফেয়ারে অনেকগুলো কোম্পানি এসেছে। পাশাপাশি ব্যাংক লোনসহ নানা জটিলতা সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হয়। তাই আমার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে এসেছি।’

ডেভেলপাররা জানান, রিহ্যাব ফেয়ার তাদের জন্য শুধু কেবল বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং এটি একটি বিশ্বাসযোগ্য ব্র্যান্ডিং ও ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ। প্রকল্প সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা, ক্রেতাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং বাজারের চাহিদা বোঝার ক্ষেত্রে এই মেলা অত্যন্ত কার্যকর। একইসঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিতে যৌথভাবে গৃহঋণ সুবিধা উপস্থাপন করাও ডেভেলপারদের জন্য বড় সুযোগ।

ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লোকেশনে রেডি এবং অনগোয়িং আবাসন প্রকল্প নিয়ে রিহ্যাব ফেয়ার ২০২৫-এ অংশ নিয়েছে ক্রিডেন্স হাউজিং লিমিটেড। এ বছর মেলায় প্রতিষ্ঠানটি গোল্ড স্পন্সর হিসেবে অংশগ্রহণ করছে। গত কয়েক বছরে মানসম্মত নির্মাণ, সময়মতো হস্তান্তর এবং স্বচ্ছ ব্যবসায়িক নীতির মাধ্যমে ক্রিডেন্স হাউজিং ক্রেতাদের ব্যাপক আস্থা অর্জন করেছে।

মেলায় প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে তাদের আবাসিক ফ্ল্যাট প্রকল্প প্রদর্শন করছে, যেখানে রেডি ফ্ল্যাটের পাশাপাশি নির্মাণাধীন প্রকল্পও রয়েছে। মেলা উপলক্ষে ক্রেতাদের জন্য বিশেষ মূল্যছাড়, সহজ কিস্তি সুবিধা ও বুকিং অফার ঘোষণা করেছে ক্রিডেন্স হাউজিং। এতে মধ্যবিত্ত ও নতুন ফ্ল্যাট ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ক্রেতারা বলছেন, নির্ভরযোগ্য ডেভেলপার হিসেবে ক্রিডেন্স হাউজিংয়ের প্রকল্পগুলো নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, রিহ্যাব ফেয়ার ২০২৫ চলবে আগামী ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত। এ বছর মেলায় শিশুদের জন্য রয়েছে খেলার জায়গা, নামাজের সু-ব্যবস্থা এবং টিকিট কাটলেই রয়েছে নাশতার ব্যবস্থা।