যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় থাকাকালীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন, সেটির চালক কামাল হোসেন মামলার সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ তাকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম সাক্ষী কামাল হোসেনের জবাবন্দি রেকর্ড করেন। তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে বলেন, মামলাটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। ঘটনাকালে হাদি সাক্ষী মো. কামাল হোসেনের চালিত অটোরিকশাযোগে খলিল হোটেল, মতিঝিল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। সাক্ষী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার বক্তব্য আদালতে প্রদান করতে ইচ্ছুক।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ফয়সালের ঘনিষ্ঠদের : শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের (সিএমএম) আদালতের দুজন বিচারক পৃথকভাবে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আসামিদের দুই ধাপে ৯ দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়। আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি সামিয়া ও ওয়াহেদের জবানবন্দি রেকর্ড করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ। অন্যদিকে আসামি লিমার জবানবন্দি রেকর্ড করে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিন। জবানবন্দি শেষে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
গত ১২ ডিসেম্বর শরীফ ওসমান হাদি রাজধানীর পুরানা পল্টনের বিজয়নগরে আততায়ীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে প্রথম ঢাকা মেডিকেল কলেজে ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত শনিবার রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় জানাজা শেষে ওই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরস্থানের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটিতে ৩০২ ধারা যুক্ত করলে তা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে, মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ভারতে পালিয়ে গেছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।