কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, স্থানীয়দের বিস্ময় 

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে মাদ্রাসার একতলা ভবনের পশ্চিম পাশের দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে গেছে। ঘটনাস্থলে ককটেল, রাসায়নিক দ্রব্য ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। মাদ্রাসার ভেতরে এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণে বিস্মিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। 

এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। গ্রেপ্তাররা হলেন মাদ্রাসার পরিচালক আল আমিনের স্ত্রী আছিয়া (২৮), আছিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার (৩০) এবং আসমানী খাতুন (৩৪)। 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, হাসনাবাদে একটি বাড়িতে চারটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে আল আমিন দুটি কক্ষে ২৫-৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে উম্মাল কুরা মাদ্রাসাটি পরিচালনা করতেন। বাকি দুটি কক্ষে তিনি তার পরিবার নিয়ে বাস করতেন। গত শুক্রবার বিস্ফোরণের ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাসায়নিক দ্রব্যাদি, চারটি ককটেল সদৃশ বস্তু, একটি ল্যাপটপ ও দুটি মনিটর উদ্ধার করে। এছাড়া পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিট ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আল আমিনের স্ত্রীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। 

পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদ্রাসার পরিচালক পলাতক আল আমিনের বিরুদ্ধে ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলা রয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত আসমানী খাতুনের নামেও একাধিক মামলা রয়েছে। পলাতক আল আমিনকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। 

এদিকে ভবনটির মালিক পারভীন আক্তারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন বছর আগে হারুন নামে এক মুফতি মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য তার বাড়ি ভাড়া নেন। হারুন তার শ্যালক আল আমিন ও শ্যালকের স্ত্রী আছিয়াকে মাদ্রাসাটি পরিচালনার দায়িত্ব দেন। হারুন সাহেব মাঝে মাঝে এখানে আসতেন, তবে আল আমিন ও তার স্ত্রী ভবনের একটি কক্ষে স্থায়ীভাবে থাকতেন। মাদ্রাসার খোঁজখবর নিয়মিত রাখতাম আমি। তবে মাদ্রাসার আড়ালে এখানে এত রাসায়নিক কীভাবে আনা হলো, ককটেল কীভাবে এলো, এমন বিস্ফোরণ কীসের থেকে ঘটল তা বুঝতে পারছি না। 

স্থানীয় বাসিন্দা সাত্তার জানান, গত শুক্রবার দুপুরের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে ভবনের চারপাশের দেয়াল উড়ে যায়। বিস্ফোরণে একতলা ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল সম্পূর্ণ ধসে পড়ে এবং ছাদ ও বিমে ফাটল দেখা দেয়। পাশের আরও দুটি কক্ষেও ফাটল ধরেছে। এছাড়া সংলগ্ন একটি ভবনের দেয়াল ও জানালাও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আফসার উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি জানান, মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। এ কারণে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বিস্ফোরণে পাশের ভবনের কিছু অংশ ফেটে গেছে। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্রও ভেঙে পড়েছে। 

জাকির হোসেন নামের আরেকজন বলেন, আমি গ্যারেজে গাড়ি রেখে বাসায় যাচ্ছিলাম। হঠাৎ বিস্ফোরণ হলে ওপর থেকে ইট পড়ে আমার মাথায় লাগে। এরপর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। স্থানীয়রা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।