উত্তেজনা বাড়লে চীনকে সমর্থন করবে রাশিয়া

সম্প্রতি তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের উত্তেজনা বেড়েছে। এমন অবস্থায় এ সংঘাত উস্কে উঠলে জাতীয় ঐক্য ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীনকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। গতকাল রবিবার রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাস প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এ তথ্য জানান। রাশিয়ার এই শীর্ষ কূটনীতিক উল্লেখ করেছেন, তাইওয়ান প্রণালিতে সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে করণীয় কী তা চীনের সঙ্গে ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত হওয়া সুপ্রতিবেশীসুলভতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার চুক্তিতে বর্ণিত আছে। এই চুক্তির মূল নীতিগুলোর একটি হলো জাতীয় ঐক্য ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পারস্পরিক সহায়তা।

তাস জানিয়েছে, এর আগে রাশিয়া ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে রোসিয়স্কায়া গেজেতার জন্য লেখা নিবন্ধে ল্যাভরভ জোরালোভাবে বলেছিলেন যে পশ্চিম সচেতনভাবে তাইওয়ান প্রণালিতে উত্তেজনা উস্কে দিচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তাসে প্রকাশিত মন্তব্যে ল্যাভরভ বলেছেন, রাশিয়া তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে বিবেচনা করে এবং দ্বীপটির স্বাধীনতার বিরোধিতা করে। সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ জাপানকে তাদের সামরিকীকরণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ‘সতর্কভাবে চিন্তা’ করার আহ্বান জানিয়েছেন বলে লিখেছে রয়টার্স।

গত শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রতিক্রিয়ায়, যুক্তরাষ্ট্রের ১০ জন ব্যক্তি ও ২০টি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের (ডিফেন্স ফার্ম) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চীনে থাকা সব ধরনের সম্পদ জব্দ করার কথা জানিয়েছে বেইজিং। একই সঙ্গে চীনের কোনো সংগঠন বা ব্যক্তি তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন বা ব্যবসা করতে পারবে না। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ১০ ব্যক্তির ওপর চীন ভ্রমণেও (হংকং ও ম্যাকাওসহ) নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। চীন সরকার তাইওয়ানকে নিজেদের প্রদেশ বলে দাবি করে থাকে। জোরপূর্বক অঞ্চলটির দখল নেওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয় না দেশটি।