বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সকাল ৯টায় এ নির্বাচন শুরুর কথা ছিল। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। নির্বাচন বানচালের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পরস্পরের বিরুদ্ধে।
এ দিকে মঙ্গলবার সকালে সিন্ডিকেট সভা শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন, শোকাবহ এই সময়ে আমরা নির্বাচনের উৎসব চাই না। এ জন্য জকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা হচ্ছে।
জকসু স্থগিত করার প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এই সময় তারা ভিসি ভবনের সামনে অবস্থান করে এবং বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
আইন বিভাগ ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফয়সল মাহমুদ বলেন, জকসু স্থগিত করা ঠিক হয়নি। দেশনোত্রী খালেদা জিয়া সব সময়ই গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপোসহীন ছিলেন। উনি ইন্তেকাল করেছেন, কিন্তু এই বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্বাচন স্থগিত না করে ভিসি মহোদয় ২ মিনিটের নীরবতা পালন করতে পরতেন। উনার সম্মানর্থে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভোট গ্রহণ শেষ করে জানাযায় শরীক হতে পারতাম।
ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক বিষয়ক পদপ্রার্থী জিহাদ বলেন, দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা শোক প্রকাশ করছি। কিন্তু এই বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রশাসন জকসুকে বানচাল করার জন্য পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা জকসু নির্বাচন চাই। জকসু না হলে প্রশাসনের পদত্যাগ চাই।
শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও জিএস প্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ বলেন,আল্লাহর দুনিয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সবাই জানে কারে চায় না জকসু। ছাত্রদল উদ্দেশপ্রণোদিতভাবেই জকসু নির্বাচন হতে দেয়নি। আমরা এইটাও জেনেছি শিক্ষক সমিতির সভাপতি রইছ স্যারের রুমে মিটিং হয়েছে যেন জকসু না হয়। জকসু নির্বাচন স্থগিত করা উপাচার্যের দুর্বলতা ছাড়া আর কিছুই না।
এই বিষয়ে জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, অন্য ক্যাম্পাসে জিতেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হেরে যাওয়ার ভয়ে তাদের সুবিধাজনক অবস্থান ধরে রাখতে ভিসিকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বন্ধ করেছে। আমরা এমন প্রশাসনকে ধিক্কার জানাই।