সম্পর্কে অস্থিরতা কমানোর পথ খুঁজছে সরকার

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে গত দেড় বছর ধরে অস্থিরতা চলছে। এ অস্থিরতা অপ্রীতিকর পর্যায়ে গড়ানোর আগেই রাশ টেনে ধরতে চায় দুই প্রতিবেশী দেশের সরকার।

কী করে এ অস্থিরতা কমানো যায়, তা বুঝতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে পরামর্শ করার জন্য ঢাকায় আসতে বলা হয় ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে ঢাকায় আসার পর গতকাল মঙ্গলবার তার সঙ্গে একসঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ও অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। রিয়াজ হামিদুল্লাহ গত সোমবার রাতে ঢাকা পৌঁছান।

এ সভায় কী কথা হয়েছে, এমন প্রশ্নে ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের গতকাল বলেন, সরকার বিভিন্ন সময় হাইকমিশনারদের ডেকে আনে; আলোচনা করে। তবে সভায় কী কথা হয়েছে, তা বলতে উপদেষ্টা রাজি হননি।

গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়। অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই তার প্রত্যর্পণের জন্য ভারত সরকারের কাছে দাবি জানায়। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সুবিধা সীমিত করে। গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আদালতের রায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হওয়ার পর এ দাবি আবারও তোলা হয়। সম্প্রতি জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া, তার খুনিদের সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে আশ্রয় যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসা, ময়মনসিংহে পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে টানাপড়েন বেড়ে যায়। ভারতে বাংলাদেশবিরোধী ও বাংলাদেশে ভারতবিরোধী বিক্ষোভ হয়। উগ্রপন্থি হিন্দুদের কয়েকটি সংগঠনের কর্মীরা ভারতে বাংলাদেশের কয়েকটি মিশনে হামলা ও ভাঙচুর করে। দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে দিল্লি, আগরতলা ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে দুই দেশই দুবার করে প্রতিবেশী দেশের হাইকমিশনারকে তলব করে প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানায়। একপর্যায়ে গত ২৩ ডিসেম্বর একইদিন দুই হাইকমিশনারকে পাল্টাপাল্টি তলব করা হয়, যা দুই দেশের প্রায় ৫৪ বছরের সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম।