পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মৎস্য সংরক্ষণ অভিযানের নামে দুইটি ট্রলার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিরুদ্ধে। গত এক ডিসেম্বর উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের শাজাহান হাওলাদার এর ভাটা সংলগ্ন বলেশ্বর নদীতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে।
বৃহস্পতিবার ( ১ জানুয়ারি ) স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে জানান। একই সাথে বিষয়টি ফয়সালা করার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের মৎস্য অফিসে ডাকা হয়েছে বলেও তারা জানান।
ভুক্তভোগী জেলেরা জানান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক এর নেতৃত্বে বলেশ্বর গত ১ ডিসেম্বর নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিল্লাল ও আসলাম নামে দুই ট্রলার মালিক কে ধাওয়া করে আটকে পর তাদের মারধার করা হয়। পরে আটককৃত ব্যক্তিদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আদালতে হাজির করলে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয় ও অবৈধ জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়। অভিযোগ উঠেছে কিছু জাল পুড়িয়ে ফেললেও মৎস্য কর্মকর্তা তার বোটম্যার আলউদ্দিন তার অফিস স্টাফ রাকিবকে দিয়ে ওই ট্রলারে থাকা বহু জাল, রশি-কাচি ভুক্তভোগীদের কাছেই বিক্রি করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত বিল্লাল এবং আসলামের বাবা আনোয়ার হাওলাদার আক্ষেপ করে বলেন, অবৈধ জাল পুড়ে ফেলেছে কষ্ট নেই, অবৈধ জাল ফেলার অভিযোগে জরিমানা করেছে কষ্ট নেই, আমার ছেলেদের আটক করতে হয়রানি হয়ে ছেলেদের মারধর করেছে সেখানেও অভিযোগ নেই। কিন্তু কি কারণে দড়ি-কাচি ও জাল আমাদের কছে আবার বিক্রি করলেন কেন ? আমার ট্রলারের মালামাল লুটপাট করে ট্রলার ডুবিয়ে দিল কেন।
ক্ষতিগ্রস্ত আসলাম জানান, প্রতি ১৫ দিনে ১ জন জেলের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা নেয় মৎস্য কর্মকর্তা। তাদের সকল ঘটে প্রতিনিধি নিয়োগ করা আছে। আমাদের ঘাটে কালেকশনের দায়িত্বে রয়েছেন জাহাঙ্গীর পেশকার। আমাদের টাকাটা দিতে দেরি হওয়ায় ১২ খানা জেলের মধ্যে আমাদের দুজনকে হয়রানী করেছে।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর পেশকার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মৎস্য অফিসারের বোটব্যান আলাউদ্দিন মাঠ থেকে টাকা কালেকশন করেন। বোটব্যান আলাউদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মোবাইল কোর্টের আওতায় ট্রলার দুটি জব্দ করা হয়েছে। চুরি হওয়া রোধে ট্রলারের দুটি তক্তা উঠিয়ে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে।
নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে জেলেদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।