তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে যুক্তের ঘোষণা

তাইওয়ানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ক্রমশই বাড়ছে। সম্প্রতি তাইওয়ানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তাইওয়ান প্রণালিতে বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। গত সোমবার শুরু হওয়া এই মহড়ার অংশ হিসেবে বিতর্কিত অঞ্চলটিতে নতুন উভচর আক্রমণজাহাজ, বোমারু বিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে বেইজিং, এমনকি মঙ্গলবার তাইওয়ানের জলসীমায় চীনের বিরুদ্ধে রকেট নিক্ষেপের অভিযোগও উঠেছে। এর একদিন পরই নতুন বছরের বার্তায় তাইওয়ানকে একীভূত করার কথা বলেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গত বুধবার নতুন বছরের প্রাক্কালে দেওয়া বক্তব্যে শি বলেন, আমাদের মাতৃভূমির পুনর্মিলন, এটি সময়ের একটি ধারা, এই পুনর্মিলন অপ্রতিরোধ্য।

তাইওয়ান এখন নিজস্ব সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়। কিন্তু চীন দাবি করে এটি তাদের অংশ। চীন দীর্ঘদিন ধরেই বলছে, তাইওয়ানকে তারা অধিগ্রহণ করবে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে শক্তিও প্রয়োগ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা চীনের অত্যাধুনিক সামরিক সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কিত। তাদের আশঙ্কা যদি শি মনে করেন, তাইওয়ানে হামলার সঠিক সময় এসেছে তাহলে সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করতে পারে। সম্প্রতি চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামের এই মহড়ার উদ্দেশ্যেও তাইপেকে চাপে রাখা। চীনের পূর্ব থিয়েটার কমান্ড জানিয়েছে, পাঁচটি নির্দিষ্ট অঞ্চল ঘিরে সাগর ও আকাশপথে এই মহড়া হয়েছে। নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ইউনিটগুলো একযোগে সাগর ও আকাশের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা এবং পানির নিচে সাবমেরিন শনাক্ত ও ধ্বংস করার অনুশীলন করছে। এসব কর্মকাণ্ড তাইওয়ানের উত্তরে ও দক্ষিণে চলছে। এতে ২০০টির বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে। যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তাইওয়ান জানিয়েছে, চীন এ মহড়া চালানোর সময় তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ২৭টি মিসাইল ছোড়ে। যেগুলো তাদের উপকূলের ২৭ নটিক্যাল মাইল দূরে পড়েছে। গত বুধবার চীন এ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু তাইওয়ান এখনো উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। কারণ চীনের নৌ ও কোস্টগার্ডের ২৫টি জাহাজ এখনো তাইওয়ানকে ঘিরে রেখেছে। এ ছাড়া তারা দুটি নজরদারি বেলুনও উড়িয়েছে। এগুলো তাইওয়ানের উত্তর উপকূলের ওপর উড়েছে।