রুমিন ফারহানার আক্ষেপ

বিএনপির জোয়ারে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনটি শরিক দলকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। বিষয়টি সঠিক হলো কি না, জানতে চাইলে বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘মানুষ যদি ভোট দেয়, সঠিক সিদ্ধান্ত। যদি মানুষ ভোট না দেয়, ভুল সিদ্ধান্ত। যদি কোনো বেইনসাফ হয়ে থাকে সেই বিচার আমি আমার ভোটারদের হাতে ছেড়ে দিয়েছি। মানুষ কী বলে দেখেন।’

গতকাল শুক্রবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রুমিন ফারহানা। এ আসনে কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির শরিক দলের মনোনীত প্রার্থী ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। এ আসনের প্রার্থী ১২ জন। সবার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এখন বাংলাদেশে এই মুহূর্তের প্রেক্ষাপটে যেহেতু আওয়ামী লীগ নেই, বিএনপির একটা জোয়ার দেখা যাচ্ছে। সেখানে আমি আবার স্বতন্ত্র দাঁড়ালাম। এটাকে আমি ভাগ্যের খেলা ছাড়া কী-ইবা বলতে পারি।’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন সদ্য প্রয়াত খালেদা জিয়া আপনাকে মনোনয়ন দিতে বলেছিলেন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলের ঊর্ধ্বতন অতি ঊর্ধ্বতন কিছু মানুষ গিয়েছিলেন উনার (প্রয়াত খালেদা জিয়া) সঙ্গে দেখা করতে। তখন উনি বলেছিলেন এই কথাটা। রুমিনেরটা কী হলো, রুমিনকে কেন মনোনয়ন দেওয়া হলো না। তিনি হাসপাতালে যাওয়ার দুই-তিন দিন আগেও এ কথাটা বলেছিলেন। যেটাই হোক, রাজনীতিতে কিন্তু তকদিরের বাইরে কিছুই হয় না। ভীষণ রকম ভাগ্য এখানে কাজ করে। আমার ভাগ্যে ঠিক ওটাই ঘটছে যেটা আমার বাবার সঙ্গে ১৯৭৩ সালে ঘটেছিল। তখন নৌকার জোয়ার ছিল। আর অন্য কোনো দলের জোয়ার ছিল না। আমার বাবা স্বতন্ত্র জিতেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ আসনে মানুষ ও ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া আমি দেখছি। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানানোর কোনো ভাষা আমার জানা নেই। মুরুব্বিরা আসেন এবং বলেন আম্মা আপনাকে জিতায়ে আমরা জবাব দেব। এই যে মানুষের ভালোবাসা, এ ঋণ আমি কী দিয়ে পরিশোধ করব।’

মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের প্রতি ক্ষোভ আছে কি না প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘একদম না। দলের যখন দুঃসময় ছিল তখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন সেটা অনেক সময় দেখা গেছে, সেটা আমার বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার চেয়ে অনেক বড়। সে দায়িত্ব আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। যেটার একটা রূপ আপনারা দেখেছেন। ২০১৮ সালের সংসদে ২০১৯ সাল থেকে আমি যোগদান করি এবং সেখানে আমার ভূমিকা কী ছিল। যখন ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আমাকে পদত্যাগ করতে বলে, আমি একমুহূর্ত চিন্তা করিনি। যখন বলেছে, যেদিন বলেছে আমি সেই মুহূর্তেই পদত্যাগ করেছি। এরপর দল যদি মনে করে নতুন নেতৃত্ব আমি তাকে আমি স্বাগত জানাই। আমার সেবার আর কোনো দরকার নেই ঠিক আছে, ভালো। আমি আমার রাজনীতি চালিয়ে যাব।’