বাণিজ্য-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দেশে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গত বৃহস্পতিবার ‘বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিশীল করতে বাণিজ্যিক আদালতের এ উদ্যোগ বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালত গঠনের পাশাপাশি বিচার নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়াবলির বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর দেশে প্রথমবারের মতো বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার আইন হলো।
এতদিন বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট আদালত ছিল না। দেওয়ানি সহকারী জজ থেকে জেলা জজ আদালত বাণিজ্য নিয়ে পক্ষগণের বিরোধ শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতেন। এ ছাড়া ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে অর্থঋণ আদালত। বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশি কোনো কোম্পানির চুক্তিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয় নিষ্পত্তি হয় আন্তর্জাতিক সালিশি (আরবিট্রেশন) বা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সালিশি কেন্দ্রের মাধ্যমে। এ ছাড়া হাইকোর্টে বাণিজ্য সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তির জন্য অ্যাডমিরালটি ও কোম্পানি বেঞ্চ রয়েছে। তবে জেলা পর্যায়ে অন্য দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার চাপ, বিচারক ও অবকাঠামো সংকটে বাণিজ্যিক বিরোধের মামলায় ছিল ধীরগতি। ফলে মামলা করেও অনেক পক্ষ বিপাকে পড়তেন। ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। ব্যবসায়িক কর্মকা-ে সৃষ্টি হতো জটিলতা। বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালতের মাধ্যমে এসব জটিলতা কমে আসবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা করবে। কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক আদালতের ভৌগোলিক এখতিয়ার নির্ধারণ করবে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, অধস্তন বাণিজ্যিক আদালতের বিচারক হবেন জেলা জজ কিংবা অতিরিক্ত জেলা জজ। এক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আইনে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এবং বাণিজ্য বিরোধ বিষয়ে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিচারকরা অগ্রাধিকার পাবেন। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি বাণিজ্যিক আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল রিভিশন শুনানির জন্য হাইকোর্টে এক বা একাধিক বেঞ্চ গঠন করবেন। অধ্যাদেশে বাণিজ্যিক আদালতের মামলার যেকোনো পর্যায়ে (বিরোধ পূর্ব ও পরবর্তী) পক্ষগণের মধ্যে মধ্যস্থতার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এর আগে, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সারা দেশে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠাসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট। গত ১১ ডিসেম্বর বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশের খসড়া উপদেষ্টা পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।