ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে আটক দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে স্বামীর মতোই ক্ষমতাশালী হিসেবে দেখা হয়। সিলিয়া ফ্লোরেস ‘ফার্স্ট লেডি’ তকমাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। একে ‘বুর্জোয়া’ বিলাসিতা বলে মনে করেন তিনি। এর পরিবর্তে তিনি নিজেকে ‘প্রিমেরা কম্বাতিয়ান্তে’ বা ‘প্রথম যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন।
এ উপাধি কেবল প্রতীকী নয়; বরং একজন লড়াকু রাজনীতিক হিসেবে তার বাস্তব অবস্থানের প্রতিফলন। তিনি কখনোই কেবল প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে পর্দার আড়ালে ছিলেন না; বরং একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সমালোচকদের দৃষ্টিতে অনেক সময় জেনারেলদের চেয়েও বেশি ক্ষমতা চর্চা করেছেন তিনি।
মাদুরোকে বিয়ের অনেক আগেই সিলিয়া ফ্লোরেস ছিলেন হুগো চাভেজের (ভেনেজুয়েলার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট) আইনজীবী। ১৯৯৪ সালে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর চাভেজকে কারাগার থেকে মুক্ত করার নেপথ্য কারিগর ছিলেন তিনি। তিনিই সেই আইনি কাঠামো তৈরি করেছিলেন, যা ব্যবহার করে ‘বলিভারিয়ান বিপ্লব’ ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রকে ভেতর থেকে গুঁড়িয়ে দেয় বলে সমালোচনা রয়েছে।
সিলিয়া ফ্লোরেস নিজের যোগ্যতায়ই রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠেন। ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ক্ষমতার এক অদ্ভুত হাতবদল দেখা যায় মাদুরো ও তার মধ্যে। তিনি অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্সি তুলে দেন মাদুরোর হাতে, পরবর্তী সময়ে মাদুরো দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিলিয়ার প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়। কয়েক দশক ধরে তারা একে অপরের মধ্যে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার ভাগাভাগি করে আসছেন।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই শাসনব্যবস্থাকে নিছক স্বৈরতন্ত্র নয়; বরং ‘দ্বৈত প্রেসিডেন্সি’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সিলিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ বিরল। যুক্তরাষ্ট্র তাকে কেবল প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে নয়; বরং ভেনেজুয়েলার সম্পদ লুণ্ঠনকারী দুর্নীতিবাজচক্রের অন্যতম ‘হোতা’ হিসেবে চিহ্নিত করে।