আয়োজনহীন অঞ্জনার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

দেখতে দেখতে কেটে গেল একটি বছর। আজ বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী অঞ্জনা রহমানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। তবে এ নিয়ে চলচ্চিত্র পাড়ায় নেই কোনো আয়োজন। শিল্পী সমিতিও অনেকটা নিরব ভূমিকা পালন করছে। ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী। 

অঞ্জনার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। তার বাবা শ্রী প্রফুল চন্দ্র সাহা ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করতেন। এ অভিনেত্রী মূলত ছিলেন কত্থক নৃত্যশিল্পী। ভরত নাট্যম ও মনিপুরী নৃত্যও শিখেছেন তিনি। ১৯৭৬ সালে বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘সেতু’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথম চলচ্চিত্রে কাজ করেন অঞ্জনা। কিন্তু পর্দায় প্রথম আসেন মাসুদ পারভেজের ‘দস্যু বনহূর’ সিনেমার মাধ্যমে। সিনেমায় সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে ২০০৬ সালে, ‘হাঙ্গামা’য়। চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে ‘দুটি মন’ শিরোনামের একটি নাটকে সর্বশেষ অভিনয় করেন তিনি। অভিনয়ে বিরতি নিলেও নাচে কখনোই বিরতি নেননি তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিশেষ দিবসে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করতেন তিনি। 

ব্যক্তিজীবনে অঞ্জনা প্রথম বিয়ে করেছিলেন মিউজিক কলেজের ছাত্র আনোয়ারকে। তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হলে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমান বুলিকে বিয়ে করেন। বুলির মৃত্যুর পরই এলোমেলো হয়ে যায় অভিনেত্রীর জীবন। চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন এই অভিনেত্রী। এ সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ডা. অরূপ রতন চৌধুরীর মাদকবিরোধী সংগঠন ‘মানস’রও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন অঞ্জনা।আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে জড়িত ছিলেন অঞ্জনা। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর অঞ্জনাও আড়ালে চলে যান। এরপরই তার অসুস্থতার খবর আসে। 

৯টি দেশের ১৩টি ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছেন অঞ্জনা। নৃত্যের জন্য পেয়েছেন ‘প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড’। দেশের বাইরে কলকাতায়ও পেয়েছেন পুরস্কার। রুহুল আমিন পরিচালিত ‘গাঙচিল’ ও আলমগীর কুমকুমের ‘পরিণীতা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ‘ঈদ মোবারক’ নামে একটি সিনেমায় আলাউদ্দীন আলীর সুরে প্লে-ব্যাকও করেছিলেন অভিনেত্রী।