৬ হাজার বন্দিকে মুক্তি দিল মিয়ানমার

দীর্ঘদিন ধরেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট ও গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত মিয়ানমার। চলতি বছর দেশটি স্বাধীনতার ৭৮ বছর উদযাপন করছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মিয়ানমারের সামরিক সরকার ৬ হাজার ১১০ কারাবন্দিকে মুক্তি এবং অন্যদের সাজা কমিয়েছে। গত রবিবার ইয়াঙ্গুনের ইনসিন কারাগার থেকে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া শুরু হয়।

এক বিবৃতিতে দেশটির ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কাউন্সিল জানায়, মানবিক দিক বিবেচনা করে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতাবলে এসব বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বন্দিদের মধ্যে বিভিন্ন কারাগার ও আটককেন্দ্রে সাজা ভোগ করা নারী ও পুরুষ উভয়ই রয়েছেন। এ ছাড়া আলাদা এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ৫২ জন বিদেশি বন্দিকে মুক্তি দিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। রবিবার সকাল থেকেই ইয়াঙ্গুনের ইনসিন কারাগারের সামনে স্বজনদের অপেক্ষায় শত শত মানুষকে ভিড় করতে দেখা যায়। হাতে বন্দি স্বজনদের নাম লেখা কাগজ নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন তারা।

তবে মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রাজনৈতিক বন্দি, বিশেষ করে দেশ থেকে উৎখাত হওয়া নেতা অং সান সু চি আছেন কি না তা জানা যায়নি। তবে হত্যাকাণ্ড বা ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে দণ্ডিতদের মুক্তি দেওয়া হয়নি। সমালোচকরা বলছেন, সামরিক সরকারের নির্বাচনের সময় এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অংশ হতে পারে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মিয়ানমারের ৭৮তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও এই সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দেওয়া হলো। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকে জান্তা সরকার হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী ও বিক্ষোভকারীকে কারারুদ্ধ করে রেখেছে।

মিয়ানমারে বর্তমানে তিন দফায় জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। জান্তা সরকার এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের পথে ফেরার ধাপ হিসেবে দাবি করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এরই মধ্যে নির্বাচনের প্রথম ধাপের ফল প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সামরিক জান্তা সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) নিম্নকক্ষের ঘোষিত আসনগুলোর ৯০ শতাংশেই জয়লাভ করেছে।