কাদেরসহ ১৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ও সেই সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাপ্রাপত অপর ব্যক্তিরা হলেন  সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব মো. নজরুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক সচিব আহমদ কায়কাউস, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. আবদুল জলিল, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব জাফর আহমেদ খান, সাবেক অর্থ ও সিএএজি সচিব  মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, এসডিজি বিষয়ক সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক ও সাবেক সদস্য (সচিব) জুয়েনা আজিজ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান (সাবেক সচিব) আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

দুদকের পক্ষে সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম ১৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা  চেয়ে আবেদনটি করেন। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে প্রতারণামূলকভাবে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমিতে ব্যক্তিস্বার্থে ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প তারা অনুমোদন করেন। ফ্ল্যাট বরাদ্দ নীতিমালা প্রণয়ন ও নীতিবহির্ভূতভাবে অনুমোদন করে এবং অনুমোদিত নীতিমালা গেজেট বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ না করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্তকালে জানা যায়, আসামিরা সপরিবারে দেশত্যাগ করে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে তদন্ত  কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খালিদ মাহমুদের জমি জব্দ :

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর উত্তরার ৫ কাঠার প্লটসহ ২৩ দশমিক ২৯ একর জমি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তার গাড়ি, এফডিআর ও সঞ্চয়ী সনদসহ ৬টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করতে আদালত নির্দেশ দিয়েছে। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ গতকাল এ আদেশ দেন। দিনাজপুরের সাবেক সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর গাড়ি, ব্যাংক হিসাব, এফডিআর ও সঞ্চয়ী হিসাবের মূল্য  দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৬৩ টাকা।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী পাবলিক সার্ভেন্ট থাকা অবস্থায় জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার ৬৮৭ টাকা এবং ১১টি ব্যাংক হিসাব ও ৫টি কার্ড হিসাবে মোট ১৩ কোটি ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৫১০ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। সে জন্য তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্তকালে আসামির নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আসামি খালিদ মাহমুদ চৌধুরী স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর বা অন্য কোনো পন্থায় মালিকানা পরিবর্তন বা হস্তান্তর করে বাংলাদেশের বাইরে গিয়ে আত্মগোপনের সম্ভাবনা রয়েছে।