বিচার ও ক্ষতিপূরণসহ পাঁচ দাবি নিহত পরিবারের

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির ঘটনায় বিচার ও ক্ষতিপূরণসহ পাঁচ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, পাইলটের উড্ডয়নজনিত ত্রুটি, বিমানবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অমান্য করার কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এই সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করে। এতে উপস্থিত নিহত পরিবারের সদস্য আশরাফুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও রফিক মোল্লা বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে তারা বলেন, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিমানবাহিনীর বাজেটে ব্যাপক দুর্নীতি না হলে বিমানের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। এই দুর্নীতির ফলে পাইলটসহ ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৭২ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের বিল্ডিং কোড অমান্য করাও হতাহতের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ।

তারা বলেন, ঘটনার দিন দুপুর ১টা ১২ মিনিটে দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাসে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়লে কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব গত ১১ ডিসেম্বর ফায়ার সার্ভিসের একটি অনুষ্ঠানে নিহতদের ২০ লাখ এবং আহতদের ৫ লাখ টাকা দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা তারা ১৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা পাইলটের উড্ডয়নজনিত ত্রুটি এবং স্কুলের বিল্ডিং কোড অমান্য করার দায়ে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি নিশ্চিত করা। শহীদ পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে হাইকোর্টের রিট পিটিশনে উল্লিখিত রুল অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান। নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ‘শহীদি মর্যাদা’ ও সনদ প্রদান এবং তাদের স্মরণে মেমোরিয়াল নির্মাণ। প্রতিবছর ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ ঘোষণা করা, উত্তরায় একটি আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ ও শিশুদের কবরের স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।