সাবেক পুলিশ সদস্যের নেতৃত্বেই স্বর্ণ ছিনতাই

চট্টগ্রামে সাবেক পুলিশ সদস্যদের নেতৃত্বে ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ছিনতাইয়ের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে সাবেক পুলিশ সদস্য সুমন চন্দ্র দাসসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর এই তথ্য জানিয়েছেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম। সুমনের নেতৃত্বেই ছিনতাইয়ের এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এদের মধ্যে গ্রেপ্তার অন্য পাঁচজন হলেন মাসুদ রানা, রফিকুল ইসলাম, রবি কুমার, পান্না রানী দাস ও বিবেক বণিক। গতকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ সাবেক পুলিশ সদস্য সুমন চন্দ্র দাসসহ ওই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। নগর গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সুমন চন্দ্র দাস সাবেক পুলিশ সদস্য। তার নেতৃত্বেই স্বর্ণে বারগুলো ছিনতাই করা হয়েছে। স্বর্ণে বারগুলো হাজারি গলির এক ব্যবসায়ীর। ওই দোকানের কর্মচারী বিবেক বণিক আগাম তথ্য দিয়ে ছিনতাইয়ে সহযোগিতা করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে গত রবিবার ভোরে নগরের পাঁচলাইশ থানার আতুরার ডিপো এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা চার ব্যক্তি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করেন। পরে অস্ত্রের মুখে অটোরিকশায় থাকা তিনজনের কাছ থেকে ৩৫টি স্বর্ণে বার (৩৫০ ভরি) ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় দোকানের কর্মচারী সবুজ দেবনাথ মামলা করেন।

গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) উপকমিশনার হাবিবুর রহমান জানান, ছিনতাইয়ের ঘটনার পরপরই ছিনতাইকারীরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গাজীপুর জেলার কাশিমপুরের মাধবপুর থেকে সুমন, মাসুদ ও ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মূল ছিনতাইয়ে জড়িত চারজনের মধ্যে একজন এখনো পলাতক আছেন। এরপর সুমনের দেওয়া তথ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার এলাকা থেকে রবিকে এবং চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে পান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকার মোহাম্মদপুরে পান্নার বোন প্রতিমা দাশের বাসা থেকে ২৯টিস স্বর্ণে বার উদ্ধার করা হয়। এরপর ছিনতাইকারীদের স্বর্ণের বার বহনের তথ্য দেওয়া জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী বিবেক বণিককে গ্রেপ্তার করা হয়। নগরের কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুল করিম বলেন, ‘সাবেক এএসআই সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বিবেকের। বিবেক তাকে তথ্য দেয় যে, তাদের দোকানের একজন কর্মচারী স্বর্ণের বার নিয়ে যাবে। এরপর সুমন ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনা সাজায়। ছিনতাইয়ের পর স্বর্ণের বারগুলো রাখে স্ত্রী পান্না ও শ্যালক রবির হেফাজতে। রবি আবার বারগুলো নিয়ে তার বোন প্রতিমার কাছে রাখে, যদিও প্রতিমা এ বিষয়ে কিছুই জানত না।’

কে এই সুমন চন্দ্র দাস?

জানা গেছে, সুমন চন্দ্র দাস ২০১৯ সালে নগরের চকবাজার থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এক ব্যক্তিকে আটক করে চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে এএসআই পদ থেকে নায়েক পদে নামানো হয়। ২০২০ সালে ছিনতাইয়ের সময় পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। জামিনে মুক্তির পরও তিনি অপরাধ থেকে সরে আসেননি। ২০২৩ সালে স্বর্ণের বার ছিনতাইয়ের আরেকটি ঘটনায় সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগে নগরের পাঁচলাইশ থানায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত রবিবার ভোরে নগরের হাজারী গলি এলাকার একটি স্বর্ণের দোকানের তিন কর্মচারী স্বর্ণ গলানোর জন্য ভাটিয়ারির উদ্দেশে রওনা দেন। তাদের বহনকারী অটোরিকশাটি মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কের আতুরার ডিপো এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা চার যুবক গতি রোধ করেন এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে স্বর্ণের বারগুলো নিয়ে পালিয়ে যান।