ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে টাঙ্গাইলের প্রার্থীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। বিএনপির প্রার্থীরা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির আলোকে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার অঙ্গীকার করছেন। জামায়াতে ইসলামী সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সৎ প্রার্থী বাছাইয়ের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার বিকল্প নেই বলে প্রচার করছে। জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) : এ আসনটি মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা এলাকায় ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ। বিএনপি ফকির মাহবুব আনামকে (স্বপন ফকির) মনোনয়ন দিলে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী ও বহিষ্কৃত নেতা কর্নেল আসাদুল ইসলাম আজাদের সমর্থকরা বিক্ষোভ, মিছিল, অবরোধ ও সমাবেশ করে প্রত্যাহারের দাবি জানান। শেষ পর্যন্ত তাতে কোনো সুফল না পাওয়ায় দলের মধ্যে চরম বিভেদ দেখা দিয়েছে। এই বিরোধের সুযোগ নিতে চাইছে জামায়াতে ইসলামী। এ আসনে ভোটার ৪ লাখ ১৭ হাজার ৮০৬ জন। মধুপুর উপজেলায় ২ লাখ ৫৫ হাজার ২১৮ জন (পুরুষ ১ লাখ ২৭ হাজার ৪১৯, নারী ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৯৮ ও তৃতীয় লিঙ্গ ১ জন) এবং ধনবাড়ী উপজেলায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৮৮ জন (পুরুষ ৭৯ হাজার ৯০২, নারী ৮২ হাজার ৬৮৬)।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন বিএনপির ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, জামায়াতের আব্দুল্লাহ হেল কাফি, স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আলী (অ্যাডভোকেট), স্বতন্ত্র আসাদুল ইসলাম আজাদ ও ইসলামী আন্দোলনের হারুন অর রশীদ। তবে ভোটের মাঠে প্রধান আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্বপন ফকির ও বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী।
আসনটিতে ১৯৭৩ সালে জাসদের আব্দুস সাত্তার জয়ী হন। এরপর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে আসনটি বারবার হাতবদল হয়েছে। সর্বশেষ ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের ড. আব্দুর রাজ্জাক টানা জয়ী হন। ৫ আগস্টের পর তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) : এ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু মনোনয়ন পেয়েছেন। দলে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা তার বিজয়কে সুনিশ্চিত মনে করছেন। তবে জামায়াতের টাঙ্গাইল জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবির তার বিজয় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া গণ অধিকার পরিষদের শাকিল উজ্জামান, জাতীয় পার্টির হুমায়ুন কবির, খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুল মালেক ও ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ফজলে বারী ভূঞাপুরী প্রচারে রয়েছেন।
এ আসনে ভোটার ৪ লাখ ৯৫৮ জন। গোপালপুর উপজেলায় ২ লাখ ৩১ হাজার ৩৬০ জন (পুরুষ ১ লাখ ১৬ হাজার ১০৫, নারী ১ লাখ ১৫ হাজার ২৫৪, তৃতীয় লিঙ্গ ১ জন) এবং ভূঞাপুর উপজেলায় ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯৮ জন (পুরুষ ৮৬ হাজার ৩৩৮, নারী ৮৩ হাজার ২৬০)।
১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের হাতেম আলী তালুকদার জয়ী হন। পরে বিএনপি, জাসদ, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে আসনটি হাতবদল হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির জয়ী হন। ৫ আগস্টের পর তিনি মামলার আসামি হয়ে পলাতক রয়েছেন।