আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও তার বান্ধবী তৌফিকা করিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে অর্থ পাচার আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল রবিবার সিআইডির মুখপাত্র বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এতে বলা হয়, তারা (আনিসুল হক-তৌফিকা করিম) ছাড়াও রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবন ও কামরুজ্জামান মিলে সংঘবদ্ধ একটি অপরাধী চক্র গড়ে তোলেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায়ের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। তদন্ত সংস্থার অনুসন্ধানে চক্রটি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মাসে ১০ লাখ টাকা করে নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযোগসংশ্লিষ্ট মো. কামরুজ্জামান ২০১৫ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি অভিযোগসংশ্লিষ্ট তৌফিকা করিমের ‘ল’ ফার্ম ‘সিরাজুল হক অ্যাসোসিয়েটস’-এর সঙ্গে নামমাত্র আইনি পরামর্শ চুক্তির মাধ্যমে তৌফিকার ব্যক্তিগত হিসাব নম্বরে নিয়মিতভাবে অর্থ স্থানান্তর করতেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পলাতক হওয়ার পূর্বপর্যন্ত শুধু ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান থেকেই চক্রটি ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা আদায় করেছে। এ ছাড়া তৌফিকার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আরও ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মন্ত্রী হওয়ার পর তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী তৌফিকা করিম ও রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবনকে ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে নিয়োগ দেন। একই সঙ্গে তিনি ‘লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স টু হেল্পলেস প্রিজনার অ্যান্ড পারসনস’ নামক একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। ওই এনজিওতে অভিযুক্ত তৌফিকাকে চেয়ারম্যান, রাশেদুলকে সেক্রেটারি জেনারেল এবং নিজে ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আনিসুল হক। এই এনজিওর নামে সোনালী ব্যাংকের হিসাব নম্বরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে চাঁদা আদায় করত। তারা ১১ মার্চ ২০১৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৪ সাল পর্যন্ত এনজিওর মাধ্যমে ২৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

অনুসন্ধান চলাকালে অভিযোগসংশ্লিষ্ট তৌফিকার নিজ নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ২৬টি হিসাব নম্বরে জমাকৃত ২৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা ঢাকার মহানগর স্পেশাল জজ আদালতের আদেশে ফ্রিজ করা হয়েছে। বর্তমানে মামলা তদন্ত করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। অর্থ পাচার ও আর্থিক অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সিআইডি। এ ধরনের অপরাধে জড়িত যে কাউকে আইনের আওতায় আনতে সিআইডির অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।