দায়মুক্ত ওসি, বরখাস্ত থানার ৯ পুলিশ সদস্য

চট্টগ্রামে জব্দের পর ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা আত্মসাৎ করে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় নগরীর বাকলিয়া থানার ৯ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ওই থানার তৎকালীন ওসি আফতাব উদ্দিনকে দায়মুক্তি দেওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত করে গত ১২ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিলেও আদালতে এখনো কোনো প্রতিবেদন জমা পড়েনি। গত ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন মাহমুদ এ আদেশ দিয়েছিলেন।

আদেশের পাশাপাশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত বলে, ‘মাদকসহ আটকের পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা না করে বাকলিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন পিআরবির ২৪৪ বিধি লঙ্ঘন করে পুলিশ আইনের ২৯ ধারার অপরাধ করেছেন।’

এ ঘটনায় নগর পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর গত ৫ জানুয়ারি বাকলিয়া থানার ৯ জনসহ ১০ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। তবে ওসি আফতাব উদ্দিন বর্তমানে নগরীর কোতোয়ালি থানায় কর্মরত।

ঘটনাটি তদন্ত করেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। তবে দায় থাকা সত্ত্বেও বরখাস্তের সুপারিশ থেকে তৎকালীন ওসি আফতাব উদ্দিনকে বাদ দেওয়ায় পুলিশের অভ্যন্তরেই প্রশ্ন উঠেছে।

জানা যায়, গত ৮ ডিসেম্বর রাতে এসআই আমির হোসেনের নেতৃত্বে বাকলিয়া থানার একটি টহল দল নগরীর নতুন ব্রিজ এলাকায় বাস তল্লাশি করে কক্সবাজার জেলা আদালতের এক বিচারকের গানম্যান ইমতিয়াজ হোসেন সৌরভের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে। কিন্তু পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদুল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইয়াবা উদ্ধারের দিন ঘটনাস্থলে ওসি আফতাব উপস্থিত ছিলেন না। তাই তাকে বরখাস্তের সুপারিশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’

পুলিশের এই ইয়াবা-কাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত আরও বলেছে, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪৬ ধারার বিধান অনুযায়ী মাদকদ্রব্যসংক্রান্ত অপরাধগুলো আমলযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ওই আইনের অধীনে সংঘটিত আমলযোগ্য অপরাধের অভিযোগে কোনো ব্যক্তিকে মাদকসহ আটকের পর বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা দায়ের না করে পিআরবির ২৪৪ বিধি লঙ্ঘনকরত পুলিশ আইনের ২৯ ধারার অপরাধ করেছেন।’

আদালত আরও বলেছে, ‘ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল এবং বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কেন আলামত উদ্ধার হওয়া সত্ত্বেও মামলা এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করেননি তার কারণ, জব্দ তালিকা প্রস্তুত না করার কারণ এবং মাদক গোপনে অন্যত্র হস্তান্তর করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কোনো ধরনের বেআইনি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে কি না এসব বিষয় তদন্ত করতে হবে।’

নগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে ওসি আফতাব উদ্দিনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।

জানা গেছে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ১০ জনের মধ্যে একজন কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন সৌরভ। বাকি ৯ জন চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়া থানার সদস্য। তারা হলেন পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর হোসেন, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল-আমিন সরকার, এসআই মো. আমির হোসেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল আলম, এএসআই জিয়াউর রহমান, এএসআই সাদ্দাম হোসেন, এএসআই এনামুল হক, কনস্টেবল রাশেদুল হাসান ও কনস্টেবল উম্মে হাবিবা স্বপ্না।