ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী জুলাই আন্দোলনে কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম (২৫) হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ১৭১ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
গতকাল বুধবার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হাসান চার্জশিট আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। এর মধ্যদিয়ে ফেনীতে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় ২২টি মামলার মধ্যে প্রথম কোনো মামলার চার্জশিট গ্রহণ করল আদালত।
২০২৫ সালের ৩১ জুলাই ২২১ জনের বিরুদ্ধে ফেনী সদর আমলি আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার এসআই আলমগীর হোসেন জিআরও কোর্টে মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার নির্ধারিত তারিখে শুনানি শেষে বিচারক আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
এর আগে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবির অসহযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ওইদিন দুপুরে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সশস্ত্র হামলায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন মাসুম। সরকার পতনের তিন দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট মারা যান মাসুম।
মাহবুবুল হাসান মাসুম ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তোরাব পাটোয়ারী বাড়ির মৃত মাওলানা নোমান হাসানের ছেলে। তিনি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। এ ঘটনায় ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ১৬২ জনের নাম উল্লেখ, আরও ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
এ মামলায় এজাহারনামীয় ১২ জন এবং তদন্তে প্রাপ্ত ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মুরাদ হাসান বাবুসহ তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।