ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে বাদী না-রাজি দিয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি পুনঃতদন্ত করতে নির্দেশ এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে অভিযোগপত্রের ওপর আপত্তি জানিয়ে না-রাজির আবেদন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। বাদীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল। শুনানি নিয়ে আদালত এ হত্যা মামলাটি আবারও তদন্ত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে পাঁচ দিনের সময় দিয়ে আগামী ২০ জানুয়ারি এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দেয় আদালত।
গত ৬ জানুয়ারি ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এতে প্রধান আসামি করা হয় ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদকে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলামের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাকে গুলি করেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম ওরফে মাসুদ। আর ঘটনার সময় ফয়সাল করিমকে বহনকারী মোটরসাইকেলটির চালক ছিলেন আদাবর থানা-যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন।
এ মামলায় প্রধান আসামিসহ অভিযোগপত্রভুক্ত ছয় আসামি এখনো পলাতক। অন্য ১১ আসামি কারাগারে আছেন। এরপর মামলার বাদী গত ১২ জানুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য ১৫ জানুয়ারি (গতকাল) পর্যন্ত সময় নেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি শুনানিতে এলে বাদী না-রাজি দেন। পলাতক আরও পাঁচ আসামি হলেন ফয়সাল করিম মাসুদের সহযোগী আলমগীর হোসেন, তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পি, ফিলিপ স্নাল ফিলিপস, মুক্তি আক্তার ও ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার।
এ মামলায় কারাগারে থাকা ১১ আসামি হলেন ফয়সাল করিমের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্টেকার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কবির, সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু ও মো. ফয়সাল।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। একপর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।