প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, এ অনিয়মে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দাবি করেছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউহদ্দিন আহমদ।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। যারা ব্যালট প্রণয়ন, প্রেরণ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা দিতে হবে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কোথাও এক বাসায় ২০০-৩০০টি করে ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও জব্দ করা হচ্ছে, আবার কোথাও এখনই ভোটিং শুরু হয়ে গেছে। যেটা ২২ তারিখে হওয়ার কথা। এমনকি একজনের নামে অন্যজন ব্যালট গ্রহণ করার ঘটনাও সামনে এসেছে। এভাবে অনেক অনিয়ম হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটদানের এই পদ্ধতি প্রথমবার চালু হয়েছে। এতে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারত। কিন্তু যে ভুলগুলো হচ্ছে, তাতে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার দাবি, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে এখানে কাজ হয়েছে। সেটা প্রমাণিত হয়েছে। আমরা কমিশনকে প্রবাসীদের কাছে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে কীভাবে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। কীভাবে ভোট দিতে হবে, কোথায় স্ক্যান করতে হবে এবং এক জায়গায় বিপুলসংখ্যক ব্যালট পাওয়া গেলে তার ব্যাখ্যা কী। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নেবে, তাও জানাতে হবে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সময়মতো ব্যাখ্যা দেবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
আচরণবিধি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভোটার সিøপ প্রদানের ক্ষেত্রে বিষয়টি সহজ করা প্রয়োজন। আমরা চাই অধিকসংখ্যক ভোটার এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। সবাই এটা চায়। সেক্ষেত্রে তারা যাতে তাদের ভোটার নাম্বার, প্রার্থীর নাম, এবং প্রতীক ইত্যাদি যেন ভোটার সিøপের মাধ্যমে পায়। বিষয়টা যেন সহজ হয়। কিন্তু সেটা না করে তারা বলছে, ভোট সিøপের মধ্যে কোনো পার্টির নাম দেওয়া যাবে না, মার্কা দেওয়া যাবে না এবং প্রার্থীর ছবি দেওয়া যাবে না। এগুলো পুনর্বিবেচনা করা দরকার।
তিনি বলেন, আচরণবিধি যেহেতু কমিশন নিজেরাই পরিবর্তন করতে পারবে। সুতরাং এ বিষয়টা বিবেচনায় নেওয়া। কারণ প্রত্যেক প্রার্থী ভোটার সিøপ দেবে। ভোটার সিøপ পেলে ভোটার নিজে চিন্তা করবে কোন দিকে দেবে না দেবে। আমরা নির্বাচনকে যেন কঠিন না করি, সহজতর করি। অধিকাংশ ভোটার যেন ভোট দিতে পারেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি সফর স্থগিত করেছেন। ওই সফর রাজনৈতিক বা নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে ছিল না। বরং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো ও কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্য ছিল।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বিভিন্নভাবে যে সব বক্তব্য দেন, বিবৃতি দিচ্ছেন এবং সেটা ভিডিওতে পাওয়া যায় তাতে করে নির্বাচন আচরণ লঙ্ঘন হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়েও আমি দেখছি যে নির্বাচন কমিশন নির্বিকার। আমরা আশা করব তারা অ্যাড্রেস করবে।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, পোস্টাল ব্যালট দেশের অভ্যন্তরে সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত হবে। সে জন্য আমরা বলেছি, প্রার্থীদেও তো মার্কা দিয়ে, নাম দিয়ে ব্যালট হয়। সেই একই ব্যালট যেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ ব্যাপারে আমরা সুস্পষ্ট প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা আশা করব, তারা গ্রহণ করবেন।