সৌদি আরব চারটি ভিন্ন স্থানে ৭৮ লাখ আউন্স (২ লাখ ২১ হাজার কেজির বেশি) সোনার বিশাল মজুদের সন্ধান পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত খনি কোম্পানি ‘মাদেন’ এই সোনার সন্ধান পেয়েছে। গত ১২ জানুয়ারি এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে চালু থাকা খনি এবং নতুন ও পুরনো বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক খনন কার্যক্রম চালানোর পরই এই সাফল্য এসেছে। মাদেন বলছে, এটি কোনো একটি দেশের ভেতরে চালানো অন্যতম বৃহত্তম খনিজ অনুসন্ধান কার্যক্রম। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক খননকাজে ৯০ লাখ (৯ মিলিয়ন) আউন্সের বেশি সোনার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। তবে খনন ব্যয়, পণ্যের দামসহ বার্ষিক সাধারণ হিসাব-নিকাশ সমন্বয়ের পর প্রকৃত নতুন সোনার মজুদের পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে ৭৮ লাখ আউন্স।
সবচেয়ে বেশি সোনা পাওয়া গেছে মাদেনের প্রধান প্রকল্প ‘মানসুরা মাসারাহ’ থেকে। গত এক বছরে এই প্রকল্পে নতুন করে ৩০ লাখ আউন্স সোনা যোগ হয়েছে। এ ছাড়া ‘উরুক ২০/২১’ ও ‘উম আস সালাম’ এলাকা থেকে ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স সোনার সন্ধান পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ‘ওয়াদি আল জাও’ এলাকায় প্রথমবারের মতো আনুমানিক ৩৮ লাখ আউন্স খনিজ সম্পদের খোঁজ মিলেছে। মাদেন জানিয়েছে, ‘সেন্ট্রাল অ্যারাবিয়ান গোল্ড রিজিওন’-এ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খননকাজ চালানোর ফলে বেশ কয়েকটি নতুন খনিজ অঞ্চল চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া ঐতিহাসিক ‘মাহদ’ স্বর্ণ খনির আশপাশে অনুসন্ধান চালিয়েও নতুন খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর ফলে খনিটির কার্যকাল আরও বাড়ানো সম্ভব কি না, তা যাচাই করা হবে।
মাদেনের প্রধান নির্বাহী বব উইল্ট জানিয়েছেন, এসব ফলাফল কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি অনুসন্ধান কৌশল যে সঠিক পথে রয়েছে, তা প্রমাণ করে। তিনি বলেন, চারটি এলাকায় ৭০ লাখ আউন্সেরও বেশি সোনা যুক্ত হওয়া আমাদের স্বর্ণভাণ্ডারের বিশালতা ও সম্ভাবনাকেই তুলে ধরে। তিনি আরও বলেন, এই প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে কোম্পানির আয় বাড়াতে সহায়তা করবে। তার মতে, এই অঞ্চলের স্বর্ণের যে সম্ভাবনা রয়েছে তা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে কোম্পানি এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। সোনার পাশাপাশি অন্যান্য খনিজের ক্ষেত্রেও অগ্রগতির কথা জানিয়েছে মাদেন। ‘জাবাল শায়বান’ ও ‘জাবাল আল ওয়াকিল’ এলাকায় প্রাথমিক খননকাজে তামা, নিকেল এবং প্লাটিনাম গ্রুপের ধাতুর সন্ধান পাওয়া গেছে। মানসুরা মাসারাহ প্রকল্পে বর্তমানে খনিজ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৬০ লাখ টন। এখানে প্রতি টনে গড়ে ২ দশমিক ৮ গ্রাম সোনা রয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ (১০.৪ মিলিয়ন) আউন্স।