বিইউর সমাবর্তনে উপদেষ্টা

রাজনৈতিক বিভাজনে শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে

শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ, সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সহনশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন ও সহনশীলতার অভাবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সংকট থেকে উত্তরণে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামীর প্রশাসক, শিক্ষক, চিকিৎসক ও নীতি নির্ধারক তৈরি হবে। গতকাল রবিবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণ কনভেনশন হলে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির (বিইউ) তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দেশকে নতুনভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। তবে শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অন্যান্য নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নির্বাচনে তরুণদের শুধু সরকার গঠন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও কাঠামো নির্ধারণেও ভূমিকা রাখতে হবে। গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত সংস্কারের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে সরকার গণভোটে হ্যাঁ-না ভোটের উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্কার না হলে পুরনো ব্যবস্থা ফিরে আসতে পারে এ কারণে শান্তিপূর্ণভাবে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে দেশের প্রত্যাশা অনেক। বাবা-মা, শিক্ষক এবং পুরো দেশ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। শিক্ষিত ও আলোকিত মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব হলো ভালো ও মন্দের পার্থক্য আরও গভীরভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে অনুধাবন করা।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কাজী জামিল আজহারের অনুপস্থিতিতে তার বক্তব্য পড়ে শোনান ট্রাস্টিজ সদস্য ডা. সাগুপ্তা মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সমাবর্তন শিক্ষাজীবনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং জীবনের এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে উত্তরণের মুহূর্ত। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি দায়িত্বেরও সূচনা।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আজ শিক্ষার্থীরা শুধু একটি ডিগ্রি নয়, ভবিষ্যতে দেশ গড়ার দায়িত্বও গ্রহণ করেছে। আজকের গ্র্যাজুয়েটরা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে এর মর্যাদা সমুন্নত রাখবে।

সমাবর্তনে ৫ হাজার ৯০৩ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ২২৪ জন স্নাতক এবং ৬৭৯ জন স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী। সমাবর্তনে স্নাতক পর্যায়ে চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল লাভ করেন খলিলুর রহমান। কাজী আজহার আলী গোল্ড মেডেল পান নুসরাত কবির বৃষ্টি। ভাইস চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল পান শায়েকা লাওলাক, তাজিবা আফরিন ও তানিয়া আক্তার। অ্যাকাডেমিক ফলাফলের ভিত্তিতে ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে রয়েছেন মৌমিতা ভৌমিক সুপ্তি, মোসা. জান্নাতি খাতুন, মো. তারিকুল ইসলাম, প্রিনন মাহদী, মো. মাহমুদ চৌধুরী, দেবারতি ভট্টাচার্য, রাজিয়া খাতুন তুন্না, মরহুম মিতু ফকির, লামিয়া চৌধুরী ও উম্মে হাবিবা শারমিন। আর স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ডিনস অ্যাওয়ার্ড পান মো. শাহিনুজ্জামান, জান্নাতুল ইসলাম ও নিশাত কাদের।

অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নূরুর রহমান খান, ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম এবং কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে কনভোকেশন মার্শাল ছিলেন আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষক আনিকা হাবিব। আরও উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সেক্রেটারি ইঞ্জি. এম এ গোলাম দস্তগীর, সদস্য কাজী মোজাহার আলী, ইঞ্জি. মশিহ উর রহমান, ডা. ওয়াহিউদ্দিন মাহমুদ, ইঞ্জি. মুশফিকুর রহমান, স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রমুখ।