জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আকস্মিকভাবে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ২৩ জানুয়ারি সংসদ (নিম্নকক্ষ) ভেঙে দেওয়া হবে। জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাত্র তিন মাস আগে এ দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। বিভিন্ন সূত্র বলছে, রাজনৈতিক সমর্থন আরও শক্ত করতে এবং পরিবর্তনশীল অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই এমন সিদ্ধান্ত। সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এর ফলে দেশ জুড়ে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৬৫টি আসনের জন্য ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। উচ্চ জনসমর্থনকে কাজে লাগানো এবং ক্ষমতাসীন জোটের ভেতরে অবস্থান আরও সংহত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) সংসদে ১৯৯টি আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় দল। জাপান ইনোভেশন পার্টির সঙ্গে জোট গড়ে তারা অল্প ব্যবধানে কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন জনমত জরিপে তার সরকারের জনপ্রিয়তা ৬০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। আকস্মিক নির্বাচন ঘোষণার উদ্যোগের পেছনে সাম্প্রতিক সময়ের সক্রিয় পররাষ্ট্রনীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত ডিসেম্বরে তাকাইচি রেকর্ড ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন দেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে বিরল খনিজসংক্রান্ত চুক্তি এবং এক যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন দুই দেশের নেতারা যেখানে দেশ দুটির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে স্বর্ণযুগ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
একই সময়ে চীনের সঙ্গে জাপানের উত্তেজনাও বেড়েছে। তাইওয়ানে হামলা হলে জাপান আত্মরক্ষার্থে বাহিনী মোতায়েন করতে পারে তাকাইচির এমন মন্তব্যের পর টোকিও ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সম্পর্ক গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও তাকাইচির ঝুঁকিও রয়েছে। গত পাঁচ বছরে তাকাইচি জাপানের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী। এলডিপির নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার পূর্বসূরি শিগেরু ইশিবার আকস্মিক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দলটির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে এবং নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে হয়।
এদিকে, বিরোধী শিবিরও নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব জাপান সম্প্রতি কোমেইতো পার্টির সঙ্গে একীভূত হয়ে সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স গঠন করেছে। আসন্ন নির্বাচনে এই জোট ক্ষমতাসীন দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে বোঝা যাবে, দেশটির মানুষ সরকারের খরচ বৃদ্ধি করার পরিকল্পনাকে কীভাবে দেখছে। জাপানে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বা জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ। গত সপ্তাহে জাপানি সংবাদমাধ্যম এনএইচকের এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৫ শতাংশ মানুষ দ্রব্যমূল্য নিয়ে চিন্তিত আর ১৬ শতাংশ মানুষ কূটনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।