বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়ল যুক্তরাষ্ট্র

২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথমদিনেই একশোরও বেশি নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই আদেশগুলোর মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ডব্লিউএইচও ত্যাগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন ডব্লিউএইচও তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও আদান-প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতাবলে সংস্থাটিকে ভবিষ্যতে সব ধরনের তহবিল, সহায়তা বা সম্পদ দেওয়া বন্ধ রেখেছেন। মুখপাত্রের ইমেইলে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এই সংস্থাকে অপ্রয়োজনীয় অর্থ দিয়েছে। আর সংস্থার ব্যর্থতার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তা আমাদের যেকোনো আর্থিক বকেয়ার চেয়ে অনেক বেশি।

এক বছর ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘আমি আশা করি যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে এবং ডব্লিউএইচওতে আবার যোগ দেবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি বিশ্বের বাকিদের জন্যও ক্ষতির কারণ হবে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বকেয়া ফি এখনো পরিশোধ করেনি। সংস্থার এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে সদস্যরাষ্ট্রগুলো ফেব্রুয়ারিতে ডব্লিউএইচও নির্বাহী বোর্ডের সভায় আলোচনা করবে।’

ডব্লিউএইচওর ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষক এবং ওয়াশিংটনের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ও’নিল ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথ ল-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক লরেন্স গোস্টিন বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে ট্রাম্প সম্ভবত কোনো বাধা ছাড়াই এগিয়ে যাবেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য উদ্যোগ এবং ডব্লিউএইচওর অন্যতম বড় অর্থদাতা গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিকট ভবিষ্যতে সংস্থায় ফিরে আসবে না। যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ে ডব্লিউএইচও তীব্র বাজেট সংকটে পড়েছে। সংস্থাটিকে তাদের ব্যবস্থাপনা দল অর্ধেক কমাতে হয়েছে এবং কাজের পরিধি ও বাজেট সংকুচিত করতে হয়েছে।