আঙুল ‘ট্রিগারেই’ আছে : ইরান

সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বাকযুদ্ধ অব্যাহত আছে। সে উত্তেজনা নতুন করে উসকে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, আমরা ইরানের ওপর নজর রাখছি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আর্মাডা (বিশাল নৌবহর) উপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের এক শীর্ষ কমান্ডার বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছেন, তাদের বাহিনী ‘ট্রিগারে আঙুল রেখে’ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষদিকে শুরু হওয়া টানা দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। তবে নজিরবিহীনভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ কঠোর দমন-পীড়নের কারণে সেই আন্দোলন বর্তমানে অনেকটাই স্তিমিত। আন্দোলনকারীদের দাবি, এ দমন-পীড়নে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এরপর থেকেই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা বারবার উন্মুক্ত রাখছেন। বর্তমানে তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, উভয়েই কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম থেকে ফেরার পথে ট্রাম্প বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে একটি বিশাল নৌবহর পাঠাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমি চাই না কোনো অঘটন ঘটুক, তবে আমরা তাদের ওপর নিবিড় নজর রাখছি। পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার ইরানের নেতাদের সতর্ক করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, খামেনির ওপর হামলার জবাবে ট্রাম্পের প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে’।

রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা এবং ১২ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে তাদের ভুল হিসাব-নিকাশ এড়িয়ে চলা উচিত। তা না হলে তাদের আরও বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেন, রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এবং ইরান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত এবং ট্রিগারে আঙুল রেখে আছে।