গাজাকে নতুন করে গড়ে তুলতে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘নিউ গাজা’। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিকে একেবারে নতুনভাবে পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে এতে। ‘নিউ গাজা’ নিয়ে উপস্থাপিত সøাইডে দেখা গেছে, ভূমধ্যসাগরের তীর জুড়ে সারি সারি উঁচু ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আর এই পুরো পরিকল্পনার পেছনে রয়েছেন ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনার। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদ’ সনদ স্বাক্ষরের ঠিক পরেই ওই পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন কুশনার। এই পরিকল্পনায় গাজায় উপকূলীয় পর্যটন, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, দুটি শহর, ১৮০টি আকাশচুম্বী ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা স্থাপনা নির্মাণের কথা বলা হয়েছে।
কুশনারের এই পরিকল্পনায় গাজার প্রায় ২১ লাখ মানুষের জন্য ধাপে ধাপে নতুন আবাসিক এলাকা, কৃষিজমি ও শিল্পাঞ্চল তৈরি করা হবে। এসব নির্মাণে অর্থায়নের প্রসঙ্গও এসেছে সেই উপস্থাপনায়। কুশনারের উপস্থাপনায় গাজার একটি মানচিত্র তুলে ধরে দেখানো হয়, কীভাবে গাজার উন্নয়ন করা হবে। বলা হয়, সমুদ্র উপকূলে ‘উপকূলীয় পর্যটন’ অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। ১৮০টি আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের জন্য যা যথেষ্ট। এই ভবনগুলোর বেশ কটিই হোটেল হতে পারে। মিসরের সঙ্গে সীমান্তের ঠিক পাশে গাজার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে একটি সমুদ্রবন্দর দেখানো হয়। এ ছাড়া মানচিত্রে বন্দর থেকে ভেতরের দিকে বিমানবন্দরের জায়গা দেখানো হয়।
কুশনার তার পরিকল্পনায় দুটি শহর গড়ার কথা উল্লেখ করেছেন। শহর দুটির একটিকে তিনি ‘নিউ রাফা’, অন্যটিকে ‘নিউ গাজা’ বলেছেন। ‘নিউ রাফা’ শহরে এক লাখের বেশি স্থায়ী আবাসিক ইউনিট নির্মিত হবে, সঙ্গে ২০০টির বেশি স্কুল এবং ৭৫টির বেশি চিকিৎসাসুবিধা থাকবে জানিয়ে কুশনার আশা প্রকাশ করেন, এই নির্মাণকাজ দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। গাজার ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। দুই বছর ধরে গাজায় চালানো ইসরায়েলি হামলায় ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। কুশনারের পরিকল্পনায় ‘নিউ গাজা’ হবে শিল্পের কেন্দ্র লক্ষ্য শতভাগ কর্মসংস্থান অর্জন।