ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

আমেরিকার সঙ্গে জামায়াতের আঁতাত দেশের জন্য ক্ষতিকর

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, আমেরিকার (যুক্তরাষ্ট্র) সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর একটি গোপন আঁতাত হয়েছে। তিনি বলেন, এই আঁতাত বাংলাদেশের জন্য মোটেই ভালো নয়; বরং দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

গতকাল শনিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের শুকানপুকুরী ইউনিয়নের জাঠিভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জামায়াত ও আমেরিকার মধ্যে গোপন যোগাযোগের বিষয় উঠে এসেছে। এই খবরের সত্যতা যাচাই করতে বিএনপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চাইবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ যখন ফিলিস্তিনে নিরীহ মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, তখন এ ধরনের গোপন আঁতাত বাংলাদেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এটি ভবিষ্যতে দেশের স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণকে অন্ধকারে রেখে এ ধরনের আন্তর্জাতিক আঁতাত কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।’

এর আগে তিনি একই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নেন। পাশাপাশি দুপুরে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের একাধিক স্থানে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখেন। পথসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে শুধু দুটো মার্কা আছে নৌকা আর ধানের শীষ। নৌকা এখন আমাদের কাছে নেই, তাহলে ভোট দেবেন ধানের শীষে। নতুন যে মার্কা দাঁড়িপাল্লা এসেছে, তা স্বাধীনতাবিরোধী দল।

মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের কথা আপনাদের মনে আছে, যুদ্ধের কথা মনে আছে। আমরা নিজেরাই পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়ে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। কেউ বাইরে থেকে এসে আমাদের হয়ে যুদ্ধ করে দেয়নি। আমরা বাংলাদেশ ছেড়ে কোথাও যাইনি। কিন্তু যারা তখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসছে। আপনারাই বিচার করবেন, তারা স্বাধীনতার পক্ষে ছিল নাকি বিপক্ষে। যুদ্ধের সময় যখন আপনারা বাড়িঘর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তখন তারা সেসব লুট করেছে। তাই এই নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন, আমাদের কাজ করার সুযোগ দিন।’

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমি আপনাদের কাছে ধানের শীষে ভোট চাই। আপনারা যখন আমাকে সমর্থন করবেন, তখন আমি সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনায় নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে, যা মা-বোনদের জন্য একটি কার্যকর অস্ত্র হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে নারীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। এছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা নানা সুযোগ-সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।’

নির্বাচিত হলে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আশ্বাস দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় নির্বাচনী প্রচারে দলের অন্য নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে ছিলেন।