বিদ্রোহীদের দাপটে জমজমাট ভোটের লড়াই

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন এখন চরম উত্তেজনায় টগবগ করছে। জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী ও প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন মোট ৬৭ জন প্রার্থী। তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের নিজস্ব বিদ্রোহী প্রার্থীরা। ধানের শীষের প্রার্থীদের বিপরীতে ১১টি আসনের মধ্যে অন্তত ৮টিতে শক্ত অবস্থান নিয়ে মাঠে নেমেছেন প্রভাবশালী বিদ্রোহী নেতারা। এছাড়া একটি আসনে জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। ফলে দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি বিদ্রোহীদের দাপটে প্রতিটি আসনের ভোটের সমীকরণ হয়ে উঠেছে জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ। 

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১১টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৪ লাখ ৬ হাজার ৮৯২ জন, নারী ভোটার ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪১ জন। 

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া): আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীকে লড়ছেন উত্তর জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য সালমান ওমর রুবেল। এ ছাড়া এই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. তাজুল ইসলাম (রিকশা), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আজহারুল ইসলাম (কাস্তে), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর মো. আব্দুর রাজ্জাক (কাঁচি) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জিল্লুর রহমান (হাতপাখা) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা): এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবেক এমপি ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে দল থেকে বহিষ্কৃত শাহ শহীদ সারোয়ার (ঘোড়া)। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদুল্লাহ (রিকশা), ইসলামী আন্দোলনের গোলাম মাওলা ভূঁইয়া (হাতপাখা), স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক (কলস), জাতীয় পার্টির মো. এমদাদুল হক খান (লাঙ্গল) এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. জুলহাস উদ্দিন শেখ (একতারা) লড়ছেন। 

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) : এ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রার্থী প্রকৌশলী এম ইকবাল হোসেইন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক আহ্বায়ক আহম্মদ তায়েবুর রহমান হিরন (ঘোড়া)। এ ছাড়া বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর এ কে এম আরিফুল হাসান (কাঁচি), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মো. আবু তাহের খান (বই) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শরিফুল ইসলাম (হাতপাখা) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

ময়মনসিংহ-৪ :

এ আসনে বিএনপির আবু ওয়াহাব আকন্দ (ধানের শীষ)। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা মোহাম্মদ কামরুল আহসান এমরুল (দাঁড়িপাল্লা)। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির আবু মো. মূসা সরকার (লাঙ্গল), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির এমদাদুল হক মিল্লাত (কাস্তে), গণসংহতি আন্দোলনের মোস্তাফিজুর রহমান (মাথাল), ইসলামী আন্দোলনের মো. নাসির উদ্দিন (হাতপাখা), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. লিয়াকত আলী (একতারা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. হামিদুল ইসলাম (আম) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর শেখর কুমার রায় (কাঁচি) লড়ছেন। 

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা):

আসনটিতে বিএনপির মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু (ধানের শীষ)। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ (দাঁড়িপাল্লা)। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম (হাতপাখা), গণসংহতি আন্দোলনের মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (মাথাল) এবং আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি)-এর মো. রফিকুল ইসলাম (ঈগল)। 

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া):

আসনটিতে বিএনপির আখতারুল আলম ফারুক (ধানের শীষ)। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মু. কামরুল আহসান মিলন (দাঁড়িপাল্লা)। এ ছাড়া জামায়াতের বিদ্রোহী অধ্যাপক জসিম উদ্দিন (ঘোড়া), স্বতন্ত্র আখতার সুলতানা (ফুটবল) এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. নুরে আলম সিদ্দিকী (হাতপাখা)। 

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল):

এ আসনে বিএনপির ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন (ধানের শীষ)। প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবেক এমপির ছেলে মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত (কাপ-পিরিচ)। এ ছাড়া জামায়াতের আছাদুজ্জামান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের মো. ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মো. জহিরুল ইসলাম (লাঙ্গল) এবং স্বতন্ত্র মো. জয়নাল আবেদীন (মোটরসাইকেল)। 

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ):

আসনে বিএনপির প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু (ধানের শীষ)। প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক এমপি শাহ নুরুল কবির শাহিন (হাতপাখা, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন)। এ ছাড়া এলডিপির অ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল (ছাতা) এবং জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম (লাঙ্গল)। 

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল):

আসনটিতে বিএনপির ইয়াসির খান চৌধুরী (ধানের শীষ)। প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবেক এমপির স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরী (হাঁস)। এ ছাড়া বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির একে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন (ফুলকপি), গণফোরামের মো. লতিফুল বারী হামিম (উদীয়মান সূর্য), ইসলামী আন্দোলনের মো. সাইদুর রহমান (হাতপাখা) এবং জাতীয় পার্টির হাসমত মাহমুদ (লাঙ্গল)। 

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও):

এ আসনে বিএনপির আক্তারুজ্জামান বাচ্চু (ধানের শীষ)। প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান (হাঁস)। এ ছাড়া এলডিপির সৈয়দ মাহমুদ মোর্শেদ (ছাতা), জামায়াতের মো. ইসমাঈল (দাঁড়িপাল্লা), গণসংহতি আন্দোলনের এ কে এম শামসুল আলম (হাঁস), জাতীয় পার্টির মো. আল আমিন সোহান (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র মো. মতিউর রহমান (ফুটবল), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. সাইফুল সালেহীন (কাস্তে) এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. হাবিবুল্লাহ বেলালী (হাতপাখা)। 

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা):

এ আসনে বিএনপির ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু (ধানের শীষ)। বিদ্রোহী প্রার্থী বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুর্শেদ আলম (হরিণ)। এ ছাড়া এনসিপির ডা. জাহিদুল ইসলাম (শাপলা কলি), গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম (ট্রাক) এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. মোস্তফা কামাল (হাতপাখা)। 

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। কোনো কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোরভাবে তা দমন করবে।