নির্বাচনী প্রচারণাকালে অনাকাক্সিক্ষত ও অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ নির্দেশনা দেন।
সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা; জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা; অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম; মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা (ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগ) পর্যন্ত চলবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে যাতে অনাকাক্সিক্ষত বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সচেতন ও সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আমরা সবাই মিলে একটি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে চাই, যেটি বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে রোল মডেল হয়ে থাকবে। সেজন্য জাতীয় নির্বাচনে জনআকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন ও নিশ্চিতকরণে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আর এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। উক্ত সেলে জরুরি যোগাযোগের জন্য টেলিফোন নম্বর : ০২-৪৭১১৮৭০০, ০২-৪৭১১৮৭০১, ০২-৪৭১১৮৭০২, ০২-৪৭১১৮৭০৩ এবং মোবাইল নম্বর : ০১৫৫০-০৬৪২২৬ (হোয়াটসঅ্যাপ) ও ০১৫৫০-০৬৪২২৭ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। তিনি নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলাসংশ্লিষ্ট যেকোনো অভিযোগের জন্য উল্লিখিত নম্বরগুলোতে যোগাযোগের অনুরোধ করেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি জনগণের আস্থার জায়গায় দাঁড়াতে পারে, তবে আইন প্রয়োগ সহজ হয়। আর যদি আস্থা হারায়, তবে শক্তি দিয়েও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন কোনো বেআইনি আদেশ, কোনো স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা বা কোনো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ না হয় সে বিষয়ে তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও অবৈধ ও বেআইনি আদেশ মানা যাবে না মর্মেও তিনি উল্লেখ করেন।