প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ১৯৭২, ১৯৯১ ও ২০০৯ সালে দেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সুযোগ এসেছিল। কিন্তু তা হয়নি। এবার আবার সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সুযোগ এসেছে। এবার না হলে দেশ আবার একটি বৃত্তচক্রে পড়বে।
গতকাল বুধবার ঢাকায় ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধ : মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট পরিচালিত একটি সমীক্ষার প্রতিবেদন রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এ আয়োজন উপস্থাপন করা হয়।
রংপুর, ফরিদপুর, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট অঞ্চলে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রায় ৫০০ ভোটারের ওপর পরিচালিত এ সমীক্ষা অনুযায়ী, এবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখনো কোনো দলের পক্ষে জোরালো ঢেউ নেই। অনেক ভোটার প্রতীক নয়, প্রার্থীর গুণগত মান ও স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এমনটা হলে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এমন প্রার্থী ভোটারের রায়ে শাস্তি পেতে পারেন। আর পরিচ্ছন্ন প্রার্থী পুরস্কৃত হতে পারেন।
সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ৩০ ভাগ মানুষ বিশ্বাস করে জুলাই ঘোষণা বাস্তবায়িত হবে। জুলাই আন্দোলনের ঐক্য তৃণমূলে ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় আছে। ক্ষমতা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি, দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নীতির চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর জোর দেওয়া, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা কম থাকা, নির্বাচনী আচরণবিধি মানার ক্ষেত্রে দুর্বলতা, সহনশীলতার অভাব, ভুয়া তথ্য ব্যাপক প্রচারের কারণে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। আর জুলাই সনদ ও গণভোটের বিষয়ে বেশিরভাগ দলের ভূমিকা অস্পষ্ট।
অন্যদিকে, ৬০ ভাগ মানুষ সহিংসতামুক্ত নির্বাচন প্রত্যাশা করেন। ভোটারদের ৫০ ভাগ জাতীয় নির্বাচনের পর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। অধিকাংশ ভোটার সংস্কার ও গণভোটের প্রতি সমর্থন জানান। তাদের প্রত্যাশা, আচরণবিধি কঠোর ও দৃশ্যমানভাবে প্রয়োগ করা দরকার। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। দলগুলো প্রতিশ্রুতি দিলে তা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তাও বলতে হবে। ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার ওপর তারা গুরুত্ব দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলেন, দলগুলো নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়ায় এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থী কমেছে।
জাসদের ডা. এম মুশতাক হোসেন নির্বাচনের পর অনতিবিলম্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের ওপর গুরুত্ব দেন।
বিইআই সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির বলেন, সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব বেশি।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ফ্যাসিবাদ ও তাদের দোসর ছাড়া অন্য দলগুলোর সংস্কার প্রস্তাবনা নিয়ে ভিন্নমত করার সুযোগ নেই।
এনসিপির আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, এবি পার্টির এম আলতাফ হোসেন, এনডিপির আবদুল্লাহ আল হারুণ, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান আলোচনায় অংশ নেন। বিএনপির কেউ অনুষ্ঠানে ছিলেন না।