আবারও কমেছে আলুর দাম। বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুমের নতুন আলুর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে গেছে। সপ্তাহ দুয়েক আগেও আলুর দাম খানিকটা বেড়ে ৩০ টাকায় উঠছিল। আবার কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকায় নেমেছে। তবে বেড়েছে সুগন্ধি চালের দাম। প্রতি কেজিতে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এ ছাড়া সপ্তাহ দুয়েক ধরে কিছুটা চড়া দামে স্থিতিশীল হয়ে আছে ব্রয়লার মুরগির দাম। শীতের সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় দামও সহনীয় রয়েছে, যদিও কিছু কিছু সবজির দাম এখনো চড়া। ঢাকার কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সপ্তাহ দুয়েক আগেও নতুন আলু প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। এ দাম কমে এখন আবার ২০ থেকে ২৫ টাকায় নেমেছে। কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, নতুন আলুর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে গেছে। অবস্থা এমন হয়েছে, গত বছরের মতোই আলুচাষিরা দাম না পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
আলুর দাম কমলেও রমজান সামনে রেখে সুগন্ধি চালের দাম বাড়িয়েছেন সরবরাহকারীরা। জানা গেছে, প্যাকেটজাত প্রতি কেজি সুগন্ধি চালের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৭৫ টাকা নির্ধারণ করেছে কোম্পানিগুলো। যা কদিন আগেও ছিল ১৬০ টাকার মধ্যে। একইভাবে বেড়েছে খোলা সুগন্ধি চালের দামও। প্রতি কেজি খোলা চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে, যা এতদিন বিক্রি হয়ে আসছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে।
বিক্রেতারা বলছেন, রমজানের বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালের দাম বাড়িয়েছেন। প্যাকেটের চালের দাম বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে খোলা চালের দামও। এ ছাড়া গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকার মধ্যে। এখনো এ দামেই বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি। প্রতি বছর রোজার আগেই বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে যায়। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৬৫ থেকে ১৭৫ টাকার মধ্যে। তবে ফার্মের ডিমের দাম বাড়েনি। প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।
বিক্রেতারা বলছেন, শীতের সবজি সহনীয় দামেই বিক্রি হচ্ছে। শীতের সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দামও বেশ সহনীয়। জানা গেছে, ফুলকপি প্রতিটি ৩০ থেকে ৩৫, বাধাকপি আকারভেদে ২৫ থেকে ৩৫, শিম প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে কেনা যাচ্ছে। তবে শসার দাম এখনো চড়া। প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার আগে শসার দাম কমার সুযোগ কম বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
কারণ হিসেবে বলছেন, রোজায় শসার বাড়তি চাহিদা থাকে। এ চাহিদাকে কেন্দ্র করেই দাম বাড়ে প্রতি বছর। এবার অবশ্য আগে থেকেই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। নানা জাতের বেগুন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এসবের দামেও নানা ভিন্নতা। প্রতি কেজি বেগুন মান ও জাতভেদে ৫৫ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে দেশি লাউ। একেকটি লাউ কিনতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা গুনতে হচ্ছে ভোক্তাকে। কিছুটা চড়া মিষ্টি কুমড়ার দামও। কদিন আগেও যেটা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন কিনতে হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।