ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ বাড়তে থাকায় দেশটি নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে নতুন সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (৩০ জানুয়ারি) শুক্রবার তুরস্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছেন, যা উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ। তবে তেহরানের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা নয়, বরং দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
ইরানের জ্যেষ্ঠ আলোচক কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা বিনিময় হলেও দেশটি '২০০ শতাংশ প্রস্তুতি' নিয়ে আত্মরক্ষায় মন দিচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে আলোচনার সম্ভাবনার মধ্যেই ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।
এরই মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি মার্কিন নৌবহর ইরানের জলসীমার কাছাকাছি অবস্থান নেওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো হামলার জবাবে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়ে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব।
সাম্প্রতিক দিনে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার কথাও জোর দিয়ে তুলে ধরছে। দেশটির সেনাবাহিনী ১০০০ নতুন ড্রোন যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে, যা যুদ্ধ, নজরদারি ও সাইবার অভিযানে সক্ষম। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে বলেও দাবি করেছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
দেশটির ভেতরে পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া বিভক্ত। সরকারপন্থীরা কঠোর অবস্থানকে সমর্থন জানালেও অনেক সাধারণ মানুষ আরেকটি যুদ্ধের মানবিক পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সম্ভাব্য সংঘাতের কথা মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষ সীমিত আকারে বেসামরিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে, যার মধ্যে জরুরি পণ্যের ব্যবস্থা ও তেহরানে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এসব প্রকল্প সম্পন্ন হতে কয়েক বছর সময় লাগবে।
এছাড়া সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও অতীত সংঘাতের সময়ের মতো আবারও ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।