মানবদেহে ৩৬০টি জোড়া রয়েছে। রোজ সকালে মানুষের ওপর প্রতিটি জোড়ার জন্য সদকা ধার্য হয়। একটু চিন্তা করুন, যদি নগদ অর্থ দিয়ে এ সদকা করার নির্দেশ মহান আল্লাহ দিতেন তাহলে মানুষ নিঃসন্দেহে অপারগ হয়ে যেত। নবীজি (সা.)-এর কাছে এই বিষয়ে শোনে সাহাবিরা অবাক হয়ে প্রশ্ন করেছিলেন যে, মানুষ এত সদকা দিতে সক্ষম হবে কি? কিন্তু আল্লাহ কত মহান ও মমতাময় যে, খুব সাধারণ কিছু কাজের মাধ্যমে সেই সদকা আদায়ের পদ্ধতি নবীজি (সা.)-এর মাধ্যমে আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। যেমন মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা, কাউকে সালাম দেওয়া, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বারণ করা। এমনকি নিজ স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করাও সদকা হিসেবে গণ্য হয়।
হজরত বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলেতে শুনেছি, মানুষের শরীরে তিনশ ষাটটি জোড়া রয়েছে। তার প্রতিটি জোড়ার জন্য সদকা করা উচিত। সাহাবিরা বলল, হে আল্লাহর নাবী! কেউ কি এত সদকা করতে সক্ষম? তিনি বললেন, তুমি মাসজিদের শ্লেষ্মা পুঁতে দেবে এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে ফেলবে। তুমি যদি তা নাও পারো তাহলে চাশতের সময় দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে, এতেই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। (সুনানে আবু দাউদ ৫২৪২)
অপর হাদিসে হজরত আবু জর (রা.) থেকে আরও বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি (সা.) বলেছেন, প্রতিদিন সকালে আদম সন্তানের দেহের প্রতিটি জোড়ার জন্য সদকা ধার্য হয়। তার সঙ্গে সাক্ষাৎকারীকে তার সালাম দেওয়া একটি সদকা। সৎকাজের আদেশ করা একটি সদকা এবং অসৎকাজ হতে নিষেধ করাও একটি সদকা। রাস্তা হতে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে ফেলা একটি সদকা। নিজ স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করাও একটি সদকা। সাহাবিরা প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে কামভাব উপভোগ করলে তাও কি তার জন্য সদকা? রাসুল (সা.) বললেন, তা অবৈধ পাত্রে রাখা হলে কি সে গুনাহগার হতো না? তিনি আরও বললেন, দুপুরের সময় দুই রাকাত নামাজ আদায় করা এসবের জন্য যথেষ্ট। (সুনানে আবু দাউদ ৫২৪৩)
লেখক : আলেম ও ধর্মীয় নিবন্ধকার