যশোরের ঝিকরগাছা, ভোলার বোরহানউদ্দিন এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৩৩ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরে বিকেলে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জামায়াত।
উপজেলা জামায়াত নেতারা জানান, দুপুরে মহিলা জামায়াতের ১০-১২ জন কর্মী নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে ভোট চাইতে যান। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের প্রচারণায় বাধা দেন এবং অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। খবর পেয়ে যুব জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের ওপর এসএস পাইপ, বাঁশ ও লোহার রড নিয়ে হামলা করেন। এতে তাদের ১০ নেতাকর্মী আহত হন।
তবে যশোর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নী জানান, জামায়াত কর্মীরা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের মতো পোশাক পরে প্রস্তুতি নিয়ে এসে বিএনপি কর্মীদের ওপর হামলা করেছেন। ঝিকরগাছা থানার ওসি দেওয়ান মোহাম্মদ শাহজালাল আলম জানান, দুপক্ষের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে ভোলা-২ আসনের বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণা কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির কর্মী সমর্থকদের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর ছয়জনকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও দুজনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মনিরাম বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একে অন্যকে দায়ী করেছে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মাকসুদুর রহমান জানান, সকালের দিকে টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াত নেতাকর্মীরা দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনী প্রচারণায় যায়। এ সময় স্থানীয় চকিদার বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানকার বিএনপির কর্মী বাহার ও সৌরভের নেতৃত্বে দলটির কর্মী ইউছুফ, আইয়ুব, শামিম, সোহাগ ও ইউনুস তাদের বাধা দেয় এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ইউনিয়ন জামায়াত আমির আবদুল হালিমসহ ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতরা হলেন ফয়জুল্লাহ, ইমন, আবদুল হালিম, শাহে আলম, রায়হান, শামিম ও তানজিল। এ ঘটনায় টবগী ইউনিয়ন জামায়াত নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল করেছেন।
তবে পাল্টা অভিযোগ করে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলম খান জানান, সকাল ৭টার দিকে জামায়াতের কিছু কর্মী বিএনপি কর্মীর বাড়িতে প্রচারণায় যান। এ সময় বাড়ির এক নারী গোসল করছিলেন। এর মধ্যে প্রচারণায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে কর্মীদের বাগবিতন্ডা হয়। এর জেরে স্থানীয় বাজারে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে জামায়াত কর্মীদের হাতাহাতি হয়। এতে তাদের চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
বোরহানউদ্দনি থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, গণসংযোগকালে দুই পক্ষরে মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও নৌবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।
অন্যদিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের হাটবাইরে জামায়াত-বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত আট নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরীর ছেলে, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. সোলায়মান চৌধুরী, মাইক্রোচালক, কনকাপৈত ইউনিয়নের বুদ্দিন গ্রামের ফয়েজ আহমেদের ছেলে মো. মামুন, হাটবাইর গ্রামের মৃত মফিজুর রহমান খাঁনের ছেলে, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজান খাঁন, বোন নাজমা আক্তার ও নারগিস আক্তার, জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. রবিউল হক রকি, উপজেলা দক্ষিণ শিবির সভাপতি মো. রিফাত সানি, জামায়াত নেতা জাকারিয়া রাসেল।
খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা-পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পৃথক দুটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় পাঠানো হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী জনসভা শেষে শান্তিপূর্ণভাবে ফেরার পথে বিএনপি নেতাকর্মীরা অতর্কিত জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে তাদের পাঁচজনসহ সাত নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলেমান চৌধুরী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এলাকায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষে রূপ নেয়, এতে তিনি, তার গাড়িচালকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবু মাহমুদ কাউসার হোসেন জানান, সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।