বিশ্বকাপে খেলবে পাকিস্তান, কিন্তু ভারতের সঙ্গে ম্যাচ বয়কট

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলবে না পাকিস্তান। দেশটির সরকার এই ব্যপারে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। রবিবার পাকিস্তানের সরকারের অফিশিয়াল ফেসবুক পাতায় দেয়া ঘোষণার মাধ্যমে জানান হয়েছে, ‘ পাকিস্তান ইসলামিক প্রজাতন্ত্র এর সরকারের পক্ষ থেকে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলকে ২০২৬ সালের আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট দল ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামবে না’।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভি জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ব্যপারটি সরকারী সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। ভারতে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তান খেলতে গেলেও ভারত ২০২৫ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে পাকিস্তানে আসেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত সরকার পাকিস্তানে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে হাইব্রিড পদ্ধতিতে ভারত তাদের সবগুলো ম্যাচ খেলেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সবগুলো ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের জন্য আইসিসিকে অনুরোধ করে। কিন্তু আইসিসি বাংলাদেশের প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বাংলাদেশকেই বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করে। আইসিসির বোর্ড সভায় একমাত্র পাকিস্তানই বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি হওয়ার সূচী ঘোষণা করেছিল আইসিসি। পাকিস্তান সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পর বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচটিই কার্যত বাতিল হয়ে গেল।

 

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বর্জন করলেও অবশ্য পাকিস্তানের টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে পরবর্তী পর্বে অর্থাৎ সুপার-৮ পর্বে ওঠার সম্ভাবনা একেবারে শুন্য হয়ে যাচ্ছে না। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান, ভারত ম্যাচের পর খেলা আছে নামিবিয়ার বিপক্ষেও। গ্রুপের ৫ দল থেকে শীর্ষ ২ দল স্থান পাবে সুপার-৮ পর্বে। চূড়ান্ত অঘটনের শিকার না হলে ঘরের মাঠে সদ্যই অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করা পাকিস্তান পরের পর্বে উঠতে পারারই কথা। সেক্ষেত্রে সুপার-৮ এবং পরবর্তী ধাপের ম্যাচগুলোও পাকিস্তান খেলবে শ্রীলঙ্কাতেই। যে কারণে একটি সেমিফাইনাল ও ফাইনালের ভেন্যু এখনো অনির্ধারিত।

পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি না খেললে আইসিসির সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি হতে পারে ৩৮ মিলিয়ন ডলারের। আইসিসির সম্প্রচার স্বত্ব, মাঠের বিজ্ঞাপণী স্বত্ব সহ আর্থিক উৎস সমূহের বড় আকর্ষণ ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ।