শনিবার পাকিস্তানের কাছে ৯০ রানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। ২০ বছরের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে অজিদের লজ্জাজনক হার ছিল সেটি। ২৪ ঘণ্টায় আরো বড়ো লজ্জার হারে ডুবলো অস্ট্রেলিয়া। রবিবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের ২০৭ রানের জবাবে ৯৬ রানে গুটিয়ে যায় অজিরা। ১১১ রানের পরাজয় তাদের ইতিহাসে শোচনীয়তম হার অস্ট্রেলিয়ার। আর এই পরাজয়টা এমন সময়ে এলো যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে এক সপ্তাও নেই আর।
শুকনো ও স্পিন সহায়ক লাহোরের উইকেটে আগের দুই ম্যাচের মতোই টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা। শুরুতে ফখর জামান দ্রুত রান তুললেও দ্বিতীয় ওভারেই আউট হয়ে যান। নিজেও চতুর্থ ওভারে বেন ডোয়ারশুইসের ধীরগতির বলে পরাস্ত হন আগা।
তবে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ছন্দহীন সময় পার করা বাবর আজম। প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থতার পর এই ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন তিনি। প্রথম বলেই চার মারার পর অ্যাডাম জাম্পার বলে মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের ফিরে আসার বার্তা দেন বাবর।
সাইম আইয়ুবের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। ১২তম ওভারে আইয়ুব আউট হলে বাবরের গতি কিছুটা কমে যায়। শেষ দিকে অবশ্য শাদাব খানের তাণ্ডবে বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং বিভাগ আবারও বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ছয় বোলারের মধ্যে চারজনই ওভারপ্রতি ১০-এর বেশি রান দেন। সবচেয়ে সাশ্রয়ী ছিলেন ম্যাট কুনেম্যান (৪ ওভারে ১/২৭)। একমাত্র বিশেষজ্ঞ পেসার হিসেবে খেলানো ডোয়ারশুইসই কিছুটা লড়াই করেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা লাহোরের ধীরগতির ও নিচু বাউন্সের উইকেটে সম্পূর্ণ দিশেহারা ছিলেন। স্পিনের বিপক্ষে তাদের শট নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সিরিজজুড়ে তুলনামূলক ভালো ছন্দে থাকা ক্যামেরন গ্রিন আবারও শুরুটা ভালো করলেও বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া দলে খেলানো হয় ম্যাথিউ শর্ট, মিচেল ওউয়েন ও উইকেটকিপার জশ ফিলিপকে—যাঁরা কেউই তাদের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেই। চোটের কারণে অ্যাডাম জাম্পা ব্যাটিংয়েও নামতে পারেননি।
অন্যদিকে শাহিন শাহ আফ্রিদির ফেরা পাকিস্তান বোলিং আক্রমণকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। সিরিজের শেষ ম্যাচে মোহাম্মদ নওয়াজের স্পিন জাদুতে ভর করেই দাপুটে এক সিরিজ শেষ করল স্বাগতিকরা। চার ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন নওয়াজ। শাহিন আফ্রিদি নেন ২ উইকেট দিয়ে ১৬ রান। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন মার্কাস স্টয়নিস, ক্যামেরন গ্রিন করেন ২২।
লাহোরে এই একতরফা সিরিজ জয়ের মাধ্যমে দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যাচ্ছে পাকিস্তান। বিপরীতে, শ্রীলঙ্কায় গ্রুপ পর্ব শুরুর আগে বড় প্রশ্নচিহ্ন নিয়েই মাঠে নামতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়াকে।
