প্রায় দুই বছর পর গাজা ও মিসরের মধ্যকার রাফা সীমান্ত পরীক্ষামূলকভাবে পুনরায় খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের একাধিক গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে গতকাল রবিবার এ খবর জানিয়েছে আলজাজিরা। ইয়েদিওথ আহরোনোথ পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এ সীমান্ত ‘পাইলট কার্যক্রমের’ আওতায় চালু রয়েছে। তবে উভয় দিক থেকে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল মূলত আজ থেকে শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিদিন আনুমানিক ১৫০ জন গাজা উপত্যকা ছাড়তে পারবেন আর প্রায় ৫০ জন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ফিরে আসবেন। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এক অনামা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, কর্র্তৃপক্ষ যাচাই ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা শুরু করেছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মিসরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সীমান্তে একটি পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যে গত শনিবার গাজার উত্তর ও দক্ষিণ অংশে তেল আবিবের একাধিক বিমান হামলায় ৬ শিশুসহ অন্তত ৩১ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর এ ক্রসিংটি খোলা হলো। যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটি এক দিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা এটি। যুদ্ধবিরতির পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৫০৯ জন নিহত এবং প্রায় দেড় হাজার ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।
এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজায় যথাযথ যুদ্ধবিরতি ও উপত্যকাটির প্রতি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবারের বিক্ষোভে ফিলিস্তিনিপন্থি কয়েক হাজার সমর্থক অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এসব বিক্ষোভকারীর হাতে ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা ও গাজায় যুদ্ধ বন্ধের প্ল্যাকার্ড। উপত্যকায় অবিলম্বে সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানান তারা। এ সময় ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বোর্ড অব পিসের উদ্যোগের সমালোচনা করেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের অভিযোগ, এ উদ্যোগ ট্রাম্পের শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রচেষ্টাকে প্রচার করছে। আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, ট্রাম্প বিশ্ব জুড়ে আরও অনেক কিছু করছেন, তাই গাজার কথা ভুলে যাচ্ছেন। তাই আমি মনে করি আমাদের সবারই গাজার শান্তির জন্য লড়াই করা গুরুত্বপূর্ণ।