একটি দল নারীদের প্রতি অশালীন আচরণ, আক্রমণ, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ও সাধারণ মানুষকে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে ঠেলে দেওয়ার হীন অপপ্রয়াস চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, বিগত ১৭ দিনে ৩৩ জেলায় নারী হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা ধামাপাচা দিতেই জামায়াত আমিরের আইডি হ্যক করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে। বড় একটি দলের নেতাকর্মীরা উসকানি দিয়েছেন আমাদের ভোটের জন্য কাজ করা নারী বা মহিলা কর্মীদের হুমকি দিয়েছেন, অশালীন মন্তব্য করেছেন এবং তাদের প্রতি এমন সব আচরণ ও কটূক্তি করেছেনযা কোনো সুস্থ মানুষ কল্পনা করতে পারেন না।
কোনো কোনো জায়গায় তাদের শারীরিকভাবে হামলা-আঘাত করে আহত করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সংঘটিত সহিংসতা ও সমসাময়িক-বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে দলের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, গত রবিবার একজন র্শীর্ষ নেতা বোরখা নিয়ে কমেন্ট করেছেন, নির্বাচনের দিন হিজাব খুলে দেখতে হবে। এর মাধ্যমে নারীদের তারা ভীতিকর মেসেজ দিচ্ছেন। জামায়াতের প্রতি নারীদের যে বিপুল সমর্থন আমরা দেখছি। আমাদের জনসভায় নারীদের উপস্থিতি দেখে তাদের মাথায় বড় ধরনের কোনো চাপ হয়েছে, যার কারণে তারা নারীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করছে। একটার পর একটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে তারপরও তাদের বোধোদয় হচ্ছে না। উল্টো আমাদের আমির নারীদের প্রতি দায়িত্বশীল কথা বলছেন।
তিনি বলেন, আমিরের টুইটার অ্যাকাউন্ট বঙ্গভবনের মতো সুরক্ষিত জায়গা থেকে হ্যাক করা হয়েছে। তাহলে জাতীয় নিরাপত্তা কোথায়। জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে বড় দলের শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকেও এমন সব কথা বলা হচ্ছে যা দেশবাসী প্রত্যাশা করে না। আমরা আশা করব যে, নারীদের সম্মান ও মর্যাদা রেখে চলব। একই সঙ্গে আমাদের ব্যাপারে অসত্য, অন্যায় ও মিথ্যা অভিযোগ যারা করছেন, দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তাদের মোকাবিলা করব। সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য জাতি উন্মুখ।
শেরপুরের রেজাউল হত্যাকান্ডের কথা উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, শেরপুরে সংসদ সদস্যপ্রার্থীর নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলা করে শ্রীবর্দী থানা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার ঘটনার পর আমরা মামলা দিয়েছিলাম এবং ওই হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার এক সপ্তাহ শেষ হয়নি, রক্তের দাগ শুকায়নি। কিন্তু আশ্চর্যজনক হচ্ছে হত্যাকান্ডের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে নাম উল্লেখ করে মামলা দেওয়া হয়েছে, যা তদন্তাধীন।
তিনি বলেন, আমরা আশ্চর্য হলাম যে সেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা উচ্চ আদালতে এসে জামিন নিয়েছেন। এত বড় একটি নৃশংস হত্যাকান্ড যেটি প্রকাশ্যে হয়েছে, সেই হত্যাকা-ের এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার তো দূরের কথা বরং তাদের জামিন দিয়ে জনমনে স্বাভাবিকভাবে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। যেখানে হত্যাকা-ের রক্তের দাগ এখনো শুকিয়ে যায়নি সেখানে খুনি ও সন্ত্রাসীরা এইভাবে পার পেয়ে যাবে!
তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসী তাদের প্রিয় নেতাকে হারিয়ে কষ্ট ও বেদনার ভেতরে আছেন। এ অবস্থায় সন্ত্রাসীদের জামিন দেওয়ার মাধ্যমে আমরা মনে করি, আইনের শাসন বাদ দিয়ে অনুকম্পা দেখানো হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে সংক্ষুব্ধ। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করতে বলেছিযাতে উচ্চ আদালত এই জামিন স্থগিত করে।
জামায়াতের এই মুখপাত্র বলেন, বিগত ১২ ডিসেম্বর শরীফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলা ও শাহাদাতের পর থেকে এটি ছিল নিষ্ঠুর ও নির্মম হত্যাকান্ড। খুব নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আরও অনেকে আহত হয়েছে। সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য এ সব চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুতবিচারের ব্যবস্থা করা। কিন্তু আমাদের কাছে মনে হয়, স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছেন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে শহীদ রেজাউল করিমের খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায়ে এনে সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে তাদের যথাযথ শাস্তি দেওয়া উচিত। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়টি বিবেচনার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’