বুধবার প্রথম ম্যাচে ভারত ৮-০ গোলে ভুটানকে হারানোর পরেই নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের ফাইনাল। সে সুযোগে ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার সাইডবেঞ্চ পরখের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেপালের বিপক্ষে নামান দ্বিতীয় শক্তির দল। সে দলই পোখারা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের ৪-০ গোলে হারিয়ে বীরদর্পে পা রেখেছে সাফ ওমেন্স অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। বদলী নেমে আলপি আক্তার করেছেন হ্যাটট্রিক। শনিবার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। টানা তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে গেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের কাছে হারলেও নেপাল ও ভুটানকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত।
ভারতের বিপক্ষে খেলা একাদশে খেলা সাতজনকে বাইরে রেখে নেপালের বিপক্ষে একাদশ সাজান বাটলার। নিয়মিত অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস, সুরভী আক্তার, মুনকি আক্তার, আলপি আক্তার, তৃষ্ণা রানী, পুজা দাস, সুরভী আখন্দ প্রীতিদের বিশ্রাম দেন কোচ। উদ্দেশ্যে অন্যদের খেলার সুযোগ দেওয়া। সে সুযোগ পেয়ে তৃতীয় মিনিটেই বাংলাদেশকে লিড এনে দেন সেন্টার ব্যাক প্রতিমা মান্ডা। প্রথম আক্রমণ থেকেই সফল হয় বাংলাদেশ। মামনী চাকমার কর্নারে প্রতীমার হেড নেপালের কিপারের ঠেকানোর সাধ্য ছিল না।
ম্যাচের ৩৪ মিনিটে অবশ্য জোড়া পরিবর্তন করেন বাটলার। জোড়া মিরা খাতুনের জায়গায় মাঠে আসেন আগের দুই ম্যাচে চার গোল করা ফরোয়ার্ড আলপি। আর শান্তি মার্ডি আসেন পুর্নিমা মারমার জায়গায়। মাঠে এসে অবশ্য প্রথম গোলের জন্য আলপিকে অপেক্ষায় থাকতে হয় বিরতির বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে তার ফ্রি-কিক নেপাল কিপার ঝর্না দুমরাকোটির মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ায়।
বিরতির পর থুইনুই মারমা আর মাঠে নামেননি। তার জায়গায় আসেন মাঝমাঠে দলের অন্যতম অস্ত্র মুনকি আক্তার। ম্যাচের ৫১ মিনিটে কর্নার থেকে অলিম্পিক গোলের চেষ্টা করেছিলেন শান্তি মার্ডি। তবে নেপাল কিপার কোনমতে ফিস্ট করে কর্নার করেন। ম্যাচের ৬২ মিনিটে শান্তি মার্ডিকে গোল বঞ্চিত করেন নেপাল ডিফেন্ডার সালোনি কুমারী চৌধুরী। লক্ষ্যে নেওয়া শট শেষ মুহূর্তে ক্লিয়ার হলে হতাশ হতে হয় তাকে। তবে পাঁচ মিনিটর পর ঠিকই আলপিকে দিয়ে গোল করান শান্তি। তার বাড়ানো বল আলতো টোকায় আগুয়ান কিপারের পাশ দিয়ে পোস্টে পাঠান বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড। এর তিন মিনিটর পর হ্যাটট্রিকের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন আলপি। তৃষ্ণারানীর ক্রসে ঠিকঠাক পা ছোঁয়ালেই হ্যাটট্রিক পূরণ হতো তার। তবে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও বলে-পায়ে সংযোগ হয়নি রাজশাহী স্টারসের হলে লিগে ৮ ম্যাচে ২৫ গোল করা ফরোয়ার্ডের। ৮২ মিনিটে অবশ্য আসরে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন আলপি।
নেপালের এক ডিফেন্ডারের ভুলের সুযোগে গোল করেন তিনি। তাতেই নেপালের বিদায় নিশ্চিত হয়। শেষ দিকে আলপিকে পেছন থেকে টেনে ধরে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় নেপাল ডিফেন্ডার মায়া মাসকেকে। যা বিদায়ের কষ্টটা আরও বাড়িয়েছে স্বাগতিকদের।
এদিকে শুরুর ম্যাচে দুর্বল ভুটানের জালে গোলৎসব করেছে ভারত। পার্ল ফার্নান্দেজের হ্যাটট্রিকে তারা জিতেছে ৮-০ ব্যবধানে। এছাড়া প্রিতিকা বর্মণ জোড়া গোল করেন। এই জয় ভারতকে নিয়ে গেছে শনিবারের ফাইনালে।