জামায়াত-এনসিপি সরকার ধর্মনির্ভর হবে না : নাহিদ

জামায়াত-এনসিপি জিতলে বাংলাদেশ ধর্মনির্ভর দেশ হবে না বলে জানিয়েছেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য উইককে একান্ত সাক্ষাৎকারে ধর্মনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের শঙ্কার প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘জামায়াত নিজেই জানিয়েছে, তারা উদার নীতির মধ্যে থাকবে। কোনো জোট সরকার ধর্মনির্ভর হবে না। এটি হবে গণতান্ত্রিক সরকার এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় আমরা অবিচল।’

নাহিদ জানান, আদর্শিক ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও কেবল নির্বাচনী কৌশল এবং জাতীয় সংস্কারের স্বার্থে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন করেছে এনসিপি। তিনি বলেন, এই জোট মূলত আসনভিত্তিক সমঝোতার জন্য গঠিত। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিন্ন লক্ষ্যও রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো বিপ্লব পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রভাব মোকাবিলা করে মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিশ্চিত করা। জোট সরকার গঠিত হলে জনগণকে একটি গণভোটে (‘রেফারেন্ডাম’) অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হবে এবং সংস্কারের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

জোট এখনো চূড়ান্ত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন এবং পরবর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলমান। যদি দলের মূল অবস্থান, বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘু অধিকার ক্ষুণœ হয়, তাহলে এই জোট চালু থাকবে না।

অন্তর্বর্তী সময়ে সরকারের কার্যক্রমের বিষয়ে নাহিদ বলেন, রেফারেন্ডামের আয়োজন একটি বড় সাফল্য। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রত্যাশিত মাত্রায় সফল হয়নি। পুরনো প্রতিষ্ঠান ও অভিজাতশিক্ত দ্রুত পুনর্গঠন করছে এবং সংস্কারের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও নাহিদ ইসলাম কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, সীমান্ত হত্যা, পানির ন্যায্য হিস্যা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা হবে। তা হলে সম্পর্ক উন্নত হতে পারে, অন্যথায় জটিল হয়ে যাবে।

দলীয় অভ্যন্তরে জোট নিয়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষ প্রসঙ্গে নাহিদ জানান, প্রায় ১০-১২ জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। তবে বাকি সদস্যরা এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত।