শেরপুর-৩-এর ভোট বাতিল

সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট ইসি

দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আবদুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, আমরা মনে করি নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে। দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছে আমাদের আবেদন একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তারা আমাদের সহায়তা করবেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি মাছউদ বলেন, সমস্ত বাংলাদেশে ৩০০ জন জজের সমন্বয়ে ৩০০টি ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি এবং এডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে। তা ছাড়া অনেক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। কেউ যদি আচরণবিধি ভঙ্গ করে, এমন

অভিযোগ থাকলে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও জুডিকেশন কমিটির কাছে প্রতিকার চাওয়া যাবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার। তিনি জানান, ম্যাজিস্ট্রেটরা অভিযোগ বা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এবং যথাযথ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে প্রেরণ করবেন। এরপর কমিশন প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এর আগে বহু ঘটনায় আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে শাস্তি দিয়েছেন, জরিমানা করেছেন।

রাহমানেল মাছউদ বলেন, যদি কোনো নির্বাচনী কর্মকর্তা নিজেই আচরণবিধি ভঙ্গ বা আইন লঙ্ঘন করেন, তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা যায়। গুরুতর কোনো বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নিজেও ব্যবস্থা নিতে পারে এবং তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

কোনো প্রার্থী যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা কোনো বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বা যেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করেন, সেটা আচরণ ভঙ্গ হয় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেই দুর্ব্যবহার যদি আইনের কাঠামোতে আচরণবিধি ভঙ্গ বোঝায়, তাহলে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। বাহিনীর মনোবল ক্ষুণœ হয় এমন কোনো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

ঢাকা-১৭ আসনে এক প্রার্থীর সেনাবাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার আচরণবিধি ভঙ্গের পর্যায়ে পড়ে কি না জানতে চাইলে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এটা তদন্তের বিষয়। কেউ যদি ক্ষুব্ধ হন, তাহলে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং এডজুডিকেশন কমিটির কাছে তারা অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। প্রমাণ সাপেক্ষে কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।

শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুর পর ওই আসনের নির্বাচন বাতিল প্রসঙ্গে ইসি আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আইন অনুযায়ী আরপিওর ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ওই নির্বাচনের পরবর্তী পদক্ষেপ পরবর্তী সব কিছু বাতিল করা হবে। বাতিল হয়ে গেছে। শিগগিরই নির্বাচন কমিশন নতুন করে ওখানে শিডিউল ঘোষণা করবে।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে এই নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ তফসিল ঘোষণা করতে হবে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দিয়ে। আপিলের ও স্ক্রুটিনির সময় আছে। কাজেই এই নির্বাচন কখন হবে, এই মুহূর্তে আমরা ঘোষণা দিতে পারছি না।