ইউরোপীয় সীমান্তে বায়োমেট্রিক বাধ্যতামূলক

ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নতুন বায়োমেট্রিক সীমান্ত ব্যবস্থা চালুর কাজ চলায় আসন্ন ছুটির মৌসুমে পাসপোর্ট কন্ট্রোলে দীর্ঘ অপেক্ষার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর ফলে ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিমানবন্দরগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী একটি গোষ্ঠীর তথ্য অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে এই অপেক্ষার সময় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। তবে ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যস্ততম সময় বা ‘পিক টাইমে’ প্রয়োজনে নতুন ব্যবস্থার কার্যক্রম আংশিকভাবে স্থগিত রাখা যাবে। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে জেনেভা বিমানবন্দরের পাসপোর্ট কন্ট্রোলে প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। শীতকালে স্কি করতে আসা পর্যটকদের কারণে জেনেভা বিমানবন্দর এমনিতেই ব্যস্ত থাকে। তবে বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ‘এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম’ বা ইইএস চালুর কারণেই এই জটলা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যস্ত স্কি মৌসুমে শনিবারগুলোতে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।

জেনেভা বিমানবন্দরের এক মুখপাত্র বলেন, ইইএস বাস্তবায়ন সুইস কাস্টমস ও বিমানবন্দরের জন্য একটি ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্মী সংখ্যা বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ইউরোপের অন্য স্থানগুলো থেকেও একই ধরনের ভোগান্তির খবর পাওয়া গেছে। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফ বিমানবন্দরেও যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। টেনেরিফ বিমানবন্দরে গাড়ি ভাড়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অ্যান্ড্রু নাইট বলেন, তার অধিকাংশ গ্রাহক যুক্তরাজ্য থেকে আসেন। শীতের রোদে ছুটি কাটাতে আসা অনেক পর্যটক বর্ডার কিওস্কে দীর্ঘ লাইনে আটকে পড়ছেন। যারা কম ভিড়ের সময়ে এসেছেন, তারা তুলনামূলক দ্রুত পাসপোর্ট কন্ট্রোল পার হতে পেরেছেন। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক বিমান অবতরণ করলে লাইন দ্রুত দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে। এই ডিজিটাল এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম চালু হলে পাসপোর্টে কালি দিয়ে সিল দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতির অবসান ঘটবে। শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশের সময় প্রথমবার নন-ইইউ নাগরিকদের পাসপোর্ট স্ক্যানের পাশাপাশি আঙুলের ছাপ ও ছবি নিবন্ধন করতে হবে। এই নিবন্ধন তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।