শিশুর স্বনির্ভরতা

শিশুর শারীরিক মানসিক নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ কতটা সমৃদ্ধ হবে, তা বহুলাংশে নির্ভর করে মা-বাবা কীভাবে লালন করছেন তার ওপরে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিভাবকরা না জেনে শিশুর সঙ্গে এমন কিছু আচরণ করেন, যা সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শিশুর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা যায়, আর কী আচরণ করা যায় না তা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। লিখেছেন শ্যামল আতিক

শারীরিক অভিযোজন বৃদ্ধির জন্য শিশুকে সুযোগ পেলেই বৃষ্টিতে ভিজতে দিন, রোদে খেলাধুলা করতে দিন। চলার পথে শিশু হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলে (যদি খুব বেশি ব্যথা না পায় অথবা মারাত্মক জখম না হলে), তাকে নিজে নিজে উঠতে দিন। শিশুকে ঘাসের ওপর হাঁটতে দিন, কাদা মাটি দিয়ে খেলতে দিন। আসলে কাদা, বালি, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমেই শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়। অভিভাবক হিসেবে শিশুর সব সমস্যার সমাধান দেওয়া আপনার দায়িত্ব নয়। কিছু সমস্যা তাকেই সমাধান করতে দিন। তা না হলে সে পরনির্ভরশীল হয়ে বেড়ে উঠবে।

শিশু হাঁটতে চাইলে তাকে কোলে রাখার প্রয়োজন নেই। এর মাধ্যমে শিশুর সক্ষমতাকে অসম্মান করা হয়। স্কুল ব্যাগ শিশুকেই বহন করতে দিন। ব্যাগের ওজন বেশি মনে হলে কিছু উপকরণ আপনার হাতে নিয়ে কিছুটা হাল্কা করে দিন, তারপরও শিশুকে ব্যাগ বহন করতে দিন। শিশুকে গৃহস্থালির কাজে যুক্ত করুন। পারিবারিক কাজে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই শিশু আত্মনির্ভরশীল হতে শেখে এবং মনোদৈহিকভাবে শক্তিশালী হয়।

প্রতিকূলতা যে জীবনের অংশ তা শিশুকে বলুন। আপনার জীবনে নানা প্রতিকূলতা আপনি কীভাবে মোকাবিলা করেছেন তা শিশুকে জানান। সমস্যাকে এড়িয়ে যেতে শেখাবেন না। সমস্যা থেকে শিশুকে সবসময় দূরে রাখবেন না। আপনি নিজেও তা পালন করবেন। তাহলে শিশুও শিখবে চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলার মাধ্যমেই সমাধান করতে হয়।

শিশুর খেলনা বা প্রিয় কোনো জিনিস হারিয়ে খেলে তৎক্ষণাৎ তা কিনে দেবেন না। এর ফলে শিশু সাময়িক দুঃখবোধ এবং না পাওয়ার বেদনাকে মেনে নিতে শিখবে। শিশু কোনো কিছু চাইলে, তা যদি যুক্তিসঙ্গতও হয় সঙ্গে সঙ্গে দেবেন না, কিছুক্ষণ পরে দিন। এতে শিশু অপেক্ষা করতে শিখবে। কোনো কাজে চেষ্টারত থাকলে সহযোগিতার নামে শিশুর প্রয়াসকে বাধাগ্রস্ত করবেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশু নিজেই সমাধান করতে পারে।

কখন কোথায় কার কাছ থেকে সহযোগিতা নিতে হবে এই বিষয়গুলো শিশুকে শিখিয়ে দিন। যে শিশুরা তা করতে পারে, তারা অন্য শিশুদের তুলনায় সমস্যা সমাধানে অধিক দক্ষ হয়। শিশুর সব সিদ্ধান্ত আপনি নেবেন না। কিছু সিদ্ধান্ত তাকে নিতে দিন। সম্ভাবনা হচ্ছে শিশুর সিদ্ধান্ত মাঝে মধ্যে ভুল হবে। এই ভুল থেকেই সে শিক্ষা নেবে। শিশুকে সবসময় অনুপ্রেরণাদায়ক কথা বলুন। তোমার প্রতি আমাদের আস্থা আছে, তুমি অবশ্যই পারবে; এর আগেও তুমি এমন কাজ করেছে এ ধরনের বক্তব্যে শিশু উজ্জীবিত হয়, আত্মবিশ^াস বাড়ে।