আবহাওয়ায় আসছে কুসুম কুসুম গরমকাল। ফাগুনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে উত্তরে। তবে এখন এ বাতাসের সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহ যুক্ত হওয়ায় বাতাস ঠা-া লাগলেও আগামীকাল থেকে তাও থাকবে না। বাড়ছে দিনের দৈর্ঘ্য ও সূর্যের উত্তাপ। ফলে গ্রীষ্মের পুরো আবহ আসার আগে কুসুম কুসুম গরমকালের আবহাওয়ার অনুভবতা আসছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে একটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। গতকাল শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড হলেও শৈত্যপ্রবাহ বইছে মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, রাজশাহী ও পাবনা জেলার ওপর দিয়ে। এসব এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। তাহলে কি চলমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে আবহাওয়ার ৪৪ বছরের উপাত্ত নিয়ে গবেষণা করা সিনিয়র আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ শৈত্যপ্রবাহ আজ-কালের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। ছোট একটি শৈত্যপ্রবাহ কালকের (শনিবার) মধ্যে শেষ হলে রবিবার থেকে তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। তবে পুরোদমে বাড়বে মাসের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে।
আসছে কুসুম কুসুম গরমের সময় : সপ্তাহখানেক পরই আসছে ফাল্গুন মাস। ফাগুনের বাতাসে শীতের আবহ কেটে যায়। এ সময়ের আবহাওয়া অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা বলেন, ধীরে ধীরে শীত কমবে এবং গরমের মাত্রা বাড়বে।
তখন কেমন হতে পারে আবহাওয়া? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে বজলুর রশিদ বলেন, দ্বিতীয়ার্ধ থেকে দিনের তাপমাত্রা যেমন বাড়বে, তেমনিভাবে রাতের তাপমাত্রাও বাড়বে। এতে শীতের আবহ থাকবে না, আবার বেশি গরমও থাকবে না। কুসুম কুসুম গরমের মতো মিষ্টি আবহাওয়া বিরাজ করবে।
পার হলো ছোট শীতকাল : নভেম্বরে শীত শুরু হলেও বাস্তবে শীতের তীব্রতা শুরু হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই ১০-১১ দিন শীতের তীব্রতা বেশি ছিল। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছিল নওগাঁর বাদলগাছিতে ৭ জানুয়ারি। এরপর থেকে বিক্ষিপ্তভাবে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম থাকলেও সমন্বিতভাবে কমেনি। ফলে শীতের তীব্রতাও আর অনুভূত হয়নি। এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফোকাস্টিং কর্মকর্তা ও আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, এবার জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের পর শীতের তীব্রতা অনুভূত হয়নি। এমনকি শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবও দেখা যায়নি।
শীতের তীব্রতা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, আগামীতে শীত আরও ক্ষণস্থায়ী হবে। বিশ্ব জুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন এবং আমাদের আশপাশের অঞ্চলের আবহাওয়ার কন্ডিশন শীত নিয়ে তেমনই পূর্বাভাস দিচ্ছে।
এর আগে শীতকাল শুরু হওয়ার আগেই গত ১১ অক্টোবর দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত হয়েছিল ‘আসছে ছোট শীতকাল’ শীর্ষক প্রতিবেদন। বর্ষার মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পরপরই এবারের শীত নিয়ে পূর্বাভাসধর্মী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছিল। এবার নভেম্বরে শীত শুরু হলেও শৈত্যপ্রবাহ দেখা যায়নি। এবার মূলত কুয়াশানির্ভর শীত দেখা গেছে। যে সময় কুয়াশা বেশি ছিল তখন শীতের তীব্রতা বেশি ছিল। কুয়াশা কেটে যাওয়ার পর শীতের তীব্রতাও কমে গিয়েছিল।
মধ্য অক্টোবরে মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর শীতের আবহ শুরু হয়। কিন্তু অক্টোবরের শেষ এবং নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে একাধিক লঘুচাপ, নিম্নচাপ কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়ে থাকে। দেশে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতকাল হলেও জানুয়ারি মাস বছরের সবচেয়ে শীতলতম মাস। বছরের এ সময়ে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে। সাধারণত উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শীতল বাতাস প্রবেশ করে থাকে। নভেম্বরের শেষের দিকে সারা দেশে শীতের আমেজ ছড়িয়ে পড়লেও ডিসেম্বরে শৈত্যপ্রবাহ দেখা যায়নি। ৩০ ডিসেম্বরের পর তাপমাত্রা কমছিল এবং জানুায়ারির প্রথম সপ্তাহে দেশের প্রায় ৫২ জেলায় একযোগে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়।