নিজ নাগরিকদের ইরান ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা আর চরম উত্তেজনার মধ্যেই ওমানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার উচ্চপর্যায়ের পরোক্ষ আলোচনায় বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটানোই ছিল এই আলোচনার মূল লক্ষ্য। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু বাড়ানোর চেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের অনড় অবস্থান কূটনীতিকে ব্যাহত করার পাশাপাশি নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করেছে। বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ বৈঠককে ‘ভালো শুরু’ বলে অভিহিত করেছেন। যদিও এ বৈঠক থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এদিকে, উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিজ নাগরিকদের তাৎক্ষণিক ইরান ছাড়তে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভার্চুয়াল দূতাবাস গতকাল শুক্রবার এ আহ্বান জানিয়েছে।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি। তবে ওমানের মাধ্যমে তেহরানের দাবিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত বুধবার জানিয়েছেন ওয়াশিংটন কেবল পারমাণবিক ইস্যু নয়, বরং ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করতে চায়। তবে ইরান এতে রাজি হয়নি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, ইরানের কথা মেনে ওই দুটি বিষয় আলোচনা থেকে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে নতুন বৈঠকে শুধুমাত্র পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

হারেৎজকে একটি সূত্র জানিয়েছেন সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নিয়ে আলোচনায় বসেছে। সূত্রটি বলেছেন, শর্ত না মানলে ইরান মূলত আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। আর সে কারণে শুধুমাত্র পরমাণু কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা হবে। সূত্রটি আরও বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো চায় না তাদের প্রতিবেশী দেশ ইরান প্রভাবশালী হোক। কিন্তু তারা একই সময় বুঝতে পারছেন যদি ইরানের ওপর এখন কোনো হামলা হয় তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য খারাপ হবে। তিনি জানিয়েছেন, ইরান কঠোর ভাষায় কথা বললেও; শেষ পর্যন্ত পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি তারা এই শর্ত থেকে সরে এসেছে কি না।

এদিকে, গতকাল শুক্রবার এক বিশেষ বার্তায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের কোনো সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দ্রুত দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব ও তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস দখলের ঘটনার পর থেকেই দুই দেশেন বৈরিতা তুঙ্গে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির পর এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ইরানে কার্যরত যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাসে জানিয়েছে ইরানে ইন্টারনেট বিভ্রাট এবং ফ্লাইট বাতিলের কারণে যোগাযোগ ও যাতায়াতব্যবস্থা বিঘিœত হতে পারে। তাদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে সম্ভব হলে আর্মেনিয়া বা তুরস্ক সীমান্ত দিয়ে স্থলপথ ব্যবহার করে দ্রুত ইরান ত্যাগ করুন। যারা এখনই বের হতে পারছেন না, তারা পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও ওষুধ মজুদ করে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করুন। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বৈত নাগরিকদের ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে। কারণ, তেহরান দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকার করে না।